জেরুজালেম ইস্যুতে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেটঃ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আরব অঞ্চল ও বিশ্বজুড়ে যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।

দি পলিটিকো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গত সপ্তাহে দুটি তারবার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

এদিকে, জেরুজালেমে আমেরিকান কনস্যুলেট জেনারেল বুধবার এক টুইটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ওল্ড সিটি ও পশ্চিম তীরে সব ধরনের ব্যক্তিগত ভ্রমণ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে এবং অতিরিক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কেবল এসব স্থানে ভ্রমণ করতে বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে মার্কিনিদের চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেবেন এবং তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তরের নির্দেশ দেবেন। এই খবরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ট্রাম্পকে তার অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অঞ্চলের নেতৃত্বস্থানীয় দেশগুলো একতরফা ঘোষণা না দিয়ে জেরুজালেমের আন্তর্জাতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়ে দিয়েছে, দূতাবাস সরিয়ে তারা জেরুজালেমে নেবে না।

ট্রাম্পকে একতরফা স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে আরব বিশ্ব ও ফিলিস্তিনিরা আহ্বান জানিয়েছেন। অধিকাংশ আরব ও ইউরোপীয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য ঘোষণাকে কেন্দ্র এরই মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনে। গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিন দিনব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’-এর শামিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘আগুনের বল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুসলিম নেতারা।

এ পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি করেন, সে দিকেই এখন বিশ্বের দৃষ্টি।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন