তার সঙ্গে চলে গেছে অসাধারণ অজানা অধ্যায় : অমিতাভ

আপডেটঃ ৫:০৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

বিনোদন ডেস্ক :‘আজ মেরে পাস বিল্ডিংস হ্যায়, প্রপার্টিস হ্যায়, ব্যাংক ব্যালান্স হ্যায়, বাংলা হ্যায়, গাড়ি হ্যায়, কেয়া হ্যায় তুমহারে পাস?’ বলিউডের অন্যতম সাড়া জাগানো সিনেমা দিওয়ার। এই সিনেমায় বিজয়ের চরিত্রে অমিতাভ বচ্চন সংলাপটি বলেছিলেন। উত্তরে রবি চরিত্রে শশী কাপুর বলেছিলেন, ‘মেরে পাস মা হ্যায়।’ হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে আইকনিক কিছু সংলাপের মধ্যে এটি একটি।

গতকাল সোমবার অস্ত গেছে দিওয়ার’র রবি। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শশী কাপুর। তার প্রয়াণে বলিপাড়ায় বিরাজ করছে শোকের ছায়া। কিংবদন্তি এই অভিনেতার সঙ্গে দিওয়ার ছাড়াও অনেক সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন বলিউডের বিগ বি খ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। কখনো ভাই আবার কখনো বন্ধু হয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি।

শশী কাপুরের প্রয়াণে তাকে স্মরণ করে নিজের ব্লগে একটি পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেখানে তিনি লিখেছেন:

স্টাইলিশ ভঙ্গিতে ভাবলেশহীনভাবে আমি তাকে একটি মার্সিডিজ স্পোর্টস কারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম, স্মার্ট গোঁফ দাঁড়ি ছাটা, অকপটেই বলা যায়, সুদর্শন কোনো ব্যক্তির মুখ। এটি ছিল ম্যাগাজিনের পুরো পৃষ্ঠাজুড়ে থাকা একটি ছবি। এর নিচে ক্যাপশনে লেখা, শশী কাপুর, পৃথ্বিরাজ কাপুরের ছেলে, রাজ কাপুর ও শাম্মী কাপুরের ছোট ভাই। পরবর্তী সিনেমার মাধ্যমে তার অভিষেক হচ্ছে।

মি মনে মনে ভাবছিলাম, অভিনেতা হওয়ার যে বাসনা, এমন একজন থাকলে তা কখনই পূরণ হবে না।

১৯৬৯ সাল, যখন আমি সিনেমায় সবে কাজ শুরু করেছি, তখন সবখানে শুধু এই আকর্ষণীয় মানুষটারই নাম। ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের কিছু কমন বন্ধু ছিল। তাদেরই একটি পার্টিতে শশীজির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল।

‘শশী কাপুর!’ সবাই জানেন, পরিচিত হওয়ার সময় তিনি সবসময় আপনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিবেন। তার সেই হাসি, জ্বলজ্বলে চোখে আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ওনাকে সবাই চিনতেন। তিনি সবসময় নম্র, ভদ্র ব্যবহার করতেন। তিনি কিছুটা দুষ্টু, মৃদু, সূক্ষ্ম, সুরেলা কণ্ঠে কথা বলতেন। তিনি যে ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন তার কাছে প্রায় অস্পষ্ট শোনাত। নিজে থেকে তার পরিচিত হওয়ার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে প্রশংসনীয়। যখন কেউ তার সঙ্গে পরিচিত হন তার নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের নামও বলে ফেলতেন। এটি পরস্পরের নাম জানার একটি অসাধারণ কৌশল। একই সঙ্গে অনেকদিন পর কারো সঙ্গে দেখা হলে তার নাম মনে করার জন্যও এটা অনেক কার্যকরী। 

আমাকে বলতেই হচ্ছে, বিভিন্ন অস্বস্তিকর সময়ের কথা। এমন হতো হঠাৎ কেউ এসে বলতেন, ‘আমাকে চিনতে পারছেন! ছয় বছর আগে কেম্প কর্ণার পার হওয়ার সময় আপনি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আমার দিকে হাত নাড়িয়েছিলেন!!’ তখন আমি এই কৌশলটি ব্যবহার করি।

মনে মনে ভাবি, ‘অবশ্যই না, এটি কীভাবে সম্ভব। শশী কাপুরের মতো হাত বাড়িয়ে বন্ধুসুলভ ব্যবহার কর।’

আমি এই কৌশলটাই মেনে চলি। আমি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি, ‘অমিতাভ বচ্চন’, ওই ব্যক্তি তার কেম্প কর্ণার, হাত নাড়ানো, গাড়ি পাশ কাটিয়ে যাওয়া সবকিছু বর্ণনা করেন। আমিও বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বেঁচে যাই। বরং উল্টো তিনি আমার প্রসঙ্গে কিছু আবেগপ্রবণ মতামত দিয়ে যান।  

তারপর ডকুমেন্টেশন, ব্যক্তিগত এবং পেশাগত কারণে এবং সর্বশেষ তার সঙ্গে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।  

তিনি অসুস্থ ছিলেন। প্রিয় স্ত্রী জেনিফারের মৃত্যুর পর তিনি শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এর আগে তিনি যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।  কিন্তু এরপর আর যাইনি। কখনোই না। আমার প্রিয় সুন্দর এই বন্ধুকে হাসপাতালে যে অবস্থায় দেখেছি তা আর দেখতে চাইনি।

যখন তারা আমাকে তার মৃত্যুর খবর দিয়েছে আমি আজকেও যাইনি। যখন রুমি জাফরি আমাদের সিনেমা জগতের বিশিষ্ট লেখক আমাকে মৃত্যুর খবরটি পৌঁছাল তখন আমার মনে যেই শব্দগুলো এসেছে তা হলো, ‘আর কতদিন আমি সুন্দর ও মূল্যবান এই বই সংরক্ষণ করতে পারব; বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো ক্ষয় হয়ে গেছে।’   

তিনি আমাকে আদর করে ডেকেছিলেন, ‘বাবুয়া’ এবং তার সঙ্গে আমার ও তার জীবনের অনেক অসাধারণ অজানা অধ্যায় চলে গেছে।