তবুও অস্ট্রেলিয়ার হাতেই লাগাম

আপডেটঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

ক্রীড়া ডেস্ক :অ্যাডিলেড টেস্টে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা বুমেরাং হয়ে গেছে।এবার অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের ইংল্যান্ডকে ফলোঅন না করানোর সিদ্ধান্তও সেরকম হলো কি না, উঠে গেছে সে প্রশ্নও। স্বাগতিক অধিনায়কের এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্তেরপুরো ফায়দা তুলল ইংলিশ বোলাররা। কৃত্রিম আলোতে গোলাপি বলেঝড় তুলে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিলেন অ্যান্ডারসন-ওকসরা। তাতে আশা জাগল ইংল্যান্ড শিবিরে। যদিও ম্যাচের লাগাম অস্ট্রেলিয়ানদের হাতেই।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪৪২ রানের জবাবে তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ড অলআউট হয়েছে ২২৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ২১৫ রানের লিড পেয়েও ইংল্যান্ডকে ফলোঅন করাননি স্মিথ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে ৫৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে আছে অধিনায়ক স্মিথের উইকেটও। অবশ্য এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার লিড হয়ে গেছে ২৬৮, হাতে ৬ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা না বললেও চলে!

ইংল্যান্ড তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ১ উইকেটে ২৯ রান নিয়ে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের তোপে পড়ে সেটি হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৪২! দিনের দ্বিতীয় ওভারেই জশ হ্যাজেলউডের বলে ব্যাকফুট ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার টিম পাইনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জেমস ভিন্স (২)। অধিনায়ক রুটকে উইকেটে থিতু হওয়ারই সময় দেননি প্যাট কামিন্স। তার দারুণ এক ডেলিভারিতে রুট ফেরেন ১০ বলে ৯ রান করে।

প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক শুরু থেকে দারুণ ব্যাটিংই করছিলেন। কিন্তু স্পিনার নাথান লায়নের দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান (৩৭)। কামিন্স আরেকটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফিরিয়েছেন ডেভিড মালানকেও (১৯)।

ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন মঈন আলী ও জনি বেয়ারস্টো। দুজনই ফিরেছেন বোলারের হাতে দুর্দান্ত ক্যাচে। মঈনকে (২৫) নিজের বলে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় করেন লায়ন। দারুণ এক রিফ্লেক্স ক্যাচে বেয়ারস্টোকে (২১) সাজঘরের পথ দেখান মিচেল স্টার্ক।  ইংল্যান্ডের সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ১৪২।

এরপরই ইনিংসের সেরা জুটিটা পেয়েছে ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত ক্রেইগ ওভারটনকে সঙ্গে নিয়ে দলের সংগ্রহ দুইশ পার করেন ক্রিস ওকস। ডিনারের আগে ওকসকে (৩৬) ফিরিয়ে ৬৬ রানের অষ্টম উইকেট জুটিটা ভাঙেন স্টার্ক। ডিনারের পর দ্রুতই জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে ফিরিয়ে সফরকারীদের গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। অভিষিক্ত ওভারটন অপরাজিত ছিলেন ৪১ রানে।

৬০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার স্পিনার লায়ন। স্টার্ক ৪৯ রানে নেন ৩ উইকেট। অন্য দুই পেসার কামিন্স একটি ও হ্যাজেলউড নেন দুই উইকেট।

স্মিথ ইংল্যান্ডকে ফলোঅন না করিয়ে তার বোলারদের বিশ্রাম দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যাটসম্যানরা কাজটা ঠিকমতো করতে পারেনি। কৃত্রিম আলোতে গোলাপি বলে দারুণ সুইং বোলিংয়ের প্রদর্শনীতে অ্যান্ডারসন ফিরিয়ে দেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট (৪) ও উসমান খাজাকে (২০)। উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়েছেন ব্যানক্রফট, খাজা হয়েছেন এলবিডব্লিউ।

ওকসের বলে স্লিপে রুটকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার (১৪)। পরের ওভারে স্মিথকে এলবিডব্লিউ করেছিলেন অ্যান্ডারসন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। দুই ওভার পর ওকসের বলও আঘাত করে স্মিথের প্যাডে। আবার আঙুল তুলে নেন আম্পায়ার, স্মিথও নেন রিভিউ। কিন্তু এবার আর সিদ্ধান্ত পাল্টেনি। স্মিথ ফেরেন ৬ রানে। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা লায়নকে (৩*) সঙ্গে নিয়ে বাকি দুই ওভার কাটিয়ে দেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব (৩*)।

হতাশার প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড বল হাতে ফিরল ঠিকই। কিন্তু ফেরাটা হয়তো বড্ড দেরি হয়ে গেল! তৃতীয় টেস্ট হবে পার্থের ওয়াকায়, যেখানে ১৯৭৮ সালের পর কোনো টেস্ট জেতেনি ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেডে হারলে অ্যাশেজটাও যে অস্ট্রেলিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে, সেটা ভালোই জানা আছে সফরকারীদের!