পথে পথে লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা

আপডেটঃ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক: বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই মাসে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম।

মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক বহন করে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। বিজয়ের মাসে অনেকেই বাড়ির ছাদে, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সামনে এমনকি গাড়িতেও জাতীয় পতাকা ওড়ান। ফলে বিজয়ের মাস এলেই জাতীয় পতাকার চাহিদা বেড়ে যায়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। কয়েক ফুট লম্বা বাঁশের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বড় থেকে ছোট আকারের পতাকা সাজিয়ে পতাকা বিক্রি করছেন তারা। শুধু পতাকা নয়, হাতে ও মাথায় বাঁধার মতো লাল-সবুজ ব্যাচও বিক্রি করছেন।

সারাদিন ঘুরে পতাকা বিক্রি করতে কষ্ট হলেও গর্ববোধ করেন সজীব আকন। তিনি পতাকা বিক্রি করতে মাদারীপুর থেকে ঢাকা এসেছেন। সজীব বলেন, ‘রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করে তেমন বেশি লাভ হয় না। তারপরও স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাস এলেই মাদারীপুর থেকে ঢাকায় এসে পতাকা বিক্রি করি। মাস শেষ হলেই আবার অন্য পেশায় যুক্ত হবো।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম না হলেও পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছেন আরেক বিক্রেতা ফয়সাল শেখ। তিনি বলেন, ‘৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। লাল-সবুজের এই পতাকা অর্জনের ইতিহাস ভুলে যাবার মতো নয়। এই বিজয় নিশান কাঁধে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে ভালোই লাগে। ছোট-বড় সকলেই পতাকা কিনছে।’

এই বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, ঢাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে এসে কিছু যুবক রাস্তায় ঘুরে পতাকা বিক্রি করছেন। তিনি আরো জানান, ছোট পতাকা ১৫ টাকা, মাঝারি ও বড় পতাকা ১২০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা আকারের পতাকা ফেরি করে বিক্রি করবেন। এরপর ফিরে যাবেন নিজ এলাকায়। পাইকারি মূল্যে পতাকা কিনে আনেন বলেও জানান তিনি।

বিজয়ের মাসে বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য ধানমন্ডি-১৫ নাম্বার এলাকায় এক বিক্রেতার কাছে পতাকার দাম জেনে নিচ্ছিলেন আবু বক্কর। তিনি পেশায় চাকরিজীবি। ছেলেমেয়ের জন্য লাল-সবুজের ব্যাচ কিনছিলেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাসে প্রতি বছর ছেলেমেয়েদের এই ব্যাচ উপহার দেই। এবারো তাদের জন্য কিনলাম। মাথায় ও হাতে ব্যাচগুলো পরে তারা বিজয় দিবস উদযাপন করবে। এতে তাদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।’