দুঃস্বপ্ন দেখার প্রকৃত কারণ

আপডেটঃ ৪:৩২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৪, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক : যদি দুঃস্বপ্ন দ্বারা আপনার ঘুম বিঘ্নিত হয়, তাহলে আপনি একা নন। দুঃস্বপ্ন দেখার কারণ ও তা বন্ধ করার উপায় খুঁজে দেখুন।

প্রাপ্তবয়স্করাও দুঃস্বপ্ন দেখে
খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন কি আপনাকে রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে? দুঃস্বপ্ন শুধুমাত্র ছেলেমেয়েরা দেখে না, প্রকৃতপক্ষে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খুব কমন। প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দুঃস্বপ্ন দেখে এবং আমাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ রিপোর্ট করে যে, এসব আতঙ্ককারী সৃষ্টিকারী দুঃস্বপ্ন ঝাঁকুনি দিয়ে মাসে অন্তত একবার আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। আমাদের ঘুমের বিঘ্নতা বন্ধ করা এবং এ সমস্যাকে জয় করার এখন সময় হয়েছে।

কি কি কারণে প্রাপ্তবয়স্করা দুঃস্বপ্ন দেখে
ওষুধ, জিন, অবক্ষয়জনিত স্নায়ুরোগ (যেমন- অ্যালজেইমার’স রোগ, খাবারের প্রভাবে শারীরিক সমস্যা হওয়ার ভয়, ট্রম্যাটিক ইভেন্ট বা মানসিক আঘাতমূলক ঘটনা, পূর্ব থেকে অনারোগ্য ক্ষত বা রোগ যা সম্প্রতি মারাত্মক কোনো কিছু প্রকাশ করেছে, অন্ত্রের সমস্যাজনিত ভয়, নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বহীনতার ভয়)।

যারা দিনের বেলা মানসিক চাপপূর্ণ ঘটনা এড়িয়ে চলেছেন তারা রাতের বেলা দুঃস্বপ্ন দেখতে পারেন। কিছু লোকের, বিশেষ করে সেসব লোক যারা ওপেন এবং সেনসিটিভ, বাস্তব কি এবং স্বপ্ন কি এ দুইয়ের মধ্যে পাতলা সীমানা থাকতে পারে- যাদের জীবন রাতের বেলা থেকে দিনের বেলা বেশি উত্তেজিত হয়, তারাও অপ্রীতিকর স্বপ্ন দেখতে পারে।

শিকাগোর রাশ-প্রেসবিটেরিয়ান-সেন্ট লিউক’স মেডিক্যাল সেন্টারের স্লিপ ডিসঅর্ডার সার্ভিসের পরিচালক রোসালিন্ড কার্টরাইট বলেন, ‘দুঃস্বপ্ন হচ্ছে ডিসফাংকশনাল ড্রিম বা অস্বাভাবিক স্বপ্ন।’

তিনি বলেন, ‘পুরোনো, সংরক্ষিত স্মৃতি এবং দূরীভূত নেতিবাচক আবেগের সঙ্গে দিনের ঘটনা ও আবেগসমূহ একীভূত হওয়ার পরিবর্তে আমরা ঘুমে এসবের নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করি বা দেখি যাকে অনেক গবেষকরা দুঃস্বপ্ন বলে অভিহিত করেছেন- আপনার ব্রেইন যেসব মানসিক ঘটনাকে প্রসেস করছে তা আপনার সার্কিটে ওভারলোড হলে পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে এসব যুক্ত হতে পারে না এবং এসবই আপনার মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে।’

কার্টরাইট বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েন, দুর্ঘটনায় সৃষ্ট সকল নেতিবাচক আবেগ বা অনুভূতি সঙ্গে সঙ্গে দূর করতে সমর্থ হবেন না।’ গাড়ি দুর্ঘটনার ভয় এবং অসুরক্ষা ও মরণশীলতার সেন্স আপনাকে বিহ্বল করে রাখবে। তাই আপনি কিছু সময়ের জন্য দুঃস্বপ্ন দেখতে পারেন, কারণ আপনার এসব ভীতিমূলক অনুভূতি পুরোনো অনুভূতির সঙ্গে একীভূত হওয়ার কাজ চলছে।

কার্টরাইট তার ‘ক্রাইসিস ড্রিমিং’ বইয়ে লিখেন, ‘আমাদের জীবন থেকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলো আলাদা করার জন্য উপায় আবিষ্কারের জন্য চিৎকার করাই হচ্ছে দুঃস্বপ্ন। মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার দেখাটা স্বাভাবিকতার পর্যায়ে পড়ে না।’

প্রাপ্তবয়স্কদের দুঃস্বপ্ন কিভাবে তাড়াবেন
প্রাপ্তবয়স্কদের দুঃস্বপ্ন হচ্ছে, ওভারলোডের একটি লক্ষণ। আপনি বিষণ্ন হলে, দুঃস্বপ্ন বারবার দেখলে অথবা পূর্বের পীড়াদায়ক ঘটনা সাম্প্রতিক ঘটনার দ্বারা উত্তেজিত হওয়ার ফলে দুঃস্বপ্ন দেখলে কোনো ডাক্তার, সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।

কার্টরাইটের মতে, আপনার দুঃস্বপ্নকে সাগরে নিক্ষেপ করার কয়েকটি উপায় হচ্ছে :
* ধরে নিন যে আপনি দুঃস্বপ্ন দেখতে যাচ্ছেন : মনে হতে পারে যে এই উপায়টি কার্যকর হবে না, কিন্তু আসলে তা নয়। আপনি ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধরে নিন যে আপনি দুঃস্বপ্ন দেখবেন, এতে আপনার দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধ হবে। আপনি হয়তো একবারের চেষ্টায় এতে সফল হবেন না, কিন্তু কয়েকবারের প্রচেষ্টায় দুঃস্বপ্ন বিদায় নেবে।

* দুঃস্বপ্নকে থামান : বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আপনি স্বপ্নকে থামাতে পারবেন। আপনি সিম্পলি এটি করতে পারেন যদি বুঝতে পারেন যে আপনি যা দেখছেন তা দুঃস্বপ্ন।

* স্বপ্নকে পরিবর্তন করুন : নেতিবাচক স্বপ্নকে ইতিবাচক স্বপ্নে রূপান্তর করুন। এটি করার জন্য আপনাকে জেগে ওঠতে হতে পারে, কিন্তু অবশেষে আপনি ঘুমের মধ্যে নেতিবাচক স্বপ্নকে ইতিবাচক স্বপ্নে রূপান্তর করতে পারবেন।

* স্বপ্ন ডায়েরি রাখুন : আপনার বিছানার পাশে একটি স্বপ্ন ডায়েরি রাখুন এবং প্রতি সকালে এতে আপনার দেখা সকল স্বপ্ন লিপিবদ্ধ করুন, শুধুমাত্র দুঃস্বপ্ন নয়, ভালো স্বপ্নও লিখে রাখুন। তারপর নির্দিষ্ট সময় পরপর সেসব স্বপ্ন রিভিউ করুন যা আপনাকে সমস্যায় ফেলে এবং নির্ণয় করার চেষ্টা করুন তারা কেন আপনাকে আপসেট করছে। তারপর উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আপসেট দূর করার চেষ্টা করুন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট