‘নির্বাচনে না এলে মুসলিম লীগের পরিণতি হবে’

আপডেটঃ ৪:৩০ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৪, ২০১৭

কক্সবাজার প্রতিনিধি :আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না এলে বিএনপির জন্য মুসলিম লীগের মতো করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীস্থ  আবাসিক হোটেলে রোহিঙ্গাদের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া নগদ অর্থ জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘বিএনপির আসল পুঁজি নেই, অর্থ-পুঁজি আছে। কথামালার চাতুরি ও স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া তাদের (বিএনপির) পুঁজি নেই।’’

আগামী নির্বাচনে জেতার মতো কোনো পুঁজি বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, নিজেদের মধ্যে নেতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রেখে ক্রমাগত মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাতে বাজাতে বিএনপি এখন এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে, তারা নিজেরাও জানে আগামী নির্বাচনে না এলে মুসলিম লীগের মতো করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকার তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়। এ পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত শত করে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতোগুলো মানুষকে খুব সহজে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তাই বিলম্বিত হতে পারে।”

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ, প্রকৃতি, সামাজিক অস্থিরতা, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিসহ নানাভাবে চাপের সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে (জনসংহতি সমিতি) বসব। এতে শান্তিচুক্তির যেসব শর্তগুলো বাস্তবায়ন হয়নি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে,  এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি নিজে প্রথমে তাদের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এ সময় কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল ও আবদুর রহমান বদি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।