ধর্মপাশায় আ.লীগের বর্ধিতসভা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ , আহত ১০

আপডেটঃ ১১:৪১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৮, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,র্ধমপাশা(সুনামগঞ্জ):সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় যোগদানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুত্বর আহত ৩ জনকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজার ইসলামীয়া মাদ্রাসার প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অনুষ্টিত বর্ধিত সভায় যোগদান করা নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেনের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন শাহ্’র গ্রুপের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজার ইসলামীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভার আহবান করেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলা-উদ্দিন শাহ। কিন্তু ওই বর্ধিত সভায় অংশ গ্রহনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেন সমর্থিত আওয়ামীলীগ কর্মী তারেক হোসেনকে ওই বর্ধিত সভায় অংশ নিতে বাধা দেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন শাহ্’র পক্ষের লিটন মিয়াসহ ৫-৬ জন কর্মী সমর্থক। এক পর্যায়ে তারা তারেক হোসেনকে মারধর করতে থাকে। পরে খবর পেয়ে নূর হোসেন গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের লোকজনের দারালো অস্ত্র, লাঠি ও ইট-পাটকেলের আঘাতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা দূরন্ত আব্দুল্লাহ্ (১৯), সারোয়ার হোসেন (২৩), যুবলীগ নেতা তফাজ্জল হোসেনসহ (৪৫) অন্তত পক্ষে ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এব্যাপারে সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, গাবী গ্রামের তারেক হোসেন নামে আমার এক সমর্থক বর্ধিত সভায় অংশ নিতে বাদশাগঞ্জ বাজারে আসলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন শাহ্র পক্ষের যুবলীগ নেতা লিটনের নেতৃত্বে ৫-৬ জন তাকে অহেতুক মারধর করে। পরে এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও পরে পুলিশসহ আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন শাহ্ তার পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, আমার পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা বর্ধিত সভায় অংশ নেয়ার জন্য নিজ-নিজ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসলে বর্তমান চেয়াম্যান নূর হোসেনের লোকজন তাদের উপর হামলা করে।
এব্যাপারে ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।