বাউফলে প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষায় বিদায় অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি

আপডেটঃ ১১:২৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৮, ২০১৭

বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফলে প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষার বিদায় অনুষ্ঠানের নামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। উপজেলার ১০৩ নং আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদালটি অফিসার, জেলে, কামার, কুমার রিক্সাচালক সহ সকল শ্রেণি পেশার লোকের সন্তানদের শিক্ষার প্রান কেন্দ্র। অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলে প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষায় শিশুদের কাছ থেকে বিদায় অনুষ্ঠানের নামে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে উক্ত টাকা পরিশোধ করতে অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের হিমশিম খেতে হয়েছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, গত বুধবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীদের ছিল বিদায় অনুষ্ঠান। এবছর বিদ্যালয়টি থেকে ৯৫জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্যাটাগরি অনুসারে ২হাজার, ১হাজার ও অস্বচ্ছল গরীব পরিবারের জন্য বাধ্যতামুলক ৫শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইনসা রহমান (মিম) এর অভিভাবক কুলসুম বেগম (দুলু) কে। স্বচ্ছল পরিবারগুলো টাকা দিতে পারলেও অস্বছল পরিবারগুলো টাকা দিতে না পারায় শুনতে হয়েছে দায়িত্বে থাকা শ্রেনী শিক্ষকের কটু কথা ও গাল মন্দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর মা জানান, আমার স্বামীর দুইদিনের রোজগারের টাকা দিয়ে মেয়ের বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়েছে। ইতিমধ্যে টাকা দিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা প্রত্যেককে নিয়েছেন একটি করে ডিনার সেট ও বিদ্যালয় বিনোদনের জন্য কিনে নিয়েছেন ৩২ ইঞ্চি একটি এলইডি টিভি। অন্য এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের ১ রোলের অভিভাবক আমার কাছে এসে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা দিয়ে স্কুলের জন্য ফ্রিজ ও ছোফাসেট ক্রয় করা হবে। পরে আমি ১ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। অর্থ আদায়ের দায়িত্বে থাকা দুলু বেগমের কাছে তার ব্যবহৃত ০১৭৮৯৪৭০৫৮৯ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফোনে বলা যাবেনা কোন কিছু জানার থাকলে বাসায় আসেন। প্রধান শিক্ষক আসমা বেগম জানান, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে একটি টেলিভিশন দিয়েছে, টাকা উঠানোর ঘটনার সাথে আমরা জড়িত না, এটা অভিভাবকদের বিষয়। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।