আ.লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করছে না

আপডেটঃ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৪, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে আগামী ১৮ নভেম্বর নাগরিক সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এ সমাবেশকে বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে তুলনা করে ‘পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বা শোডাউন’ হিসেবে আখ্যায়িত না করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কোনো রাজনীতিক ডিভাইসিক পলিটিক্স করতে চাই না। কাজেই সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, এখানে যারা আছেন, বাইরে যারা আছেন, এটাকে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বলা ঠিক হবে না।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত সাংবাদিকদের আনন্দ সম্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপলক্ষে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে আগামী ১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশের তুলনা না করার আহ্বান জানান। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করে বিএনপি।

এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, আশা করি একটা ভাল সমাবেশ হবে। একটি বিষয় খুব ভয় পাচ্ছি, বাংলাদেশের জাতীয় সাংবাদিকরা আছেন এখানে। আমিও সাংবাদিক ছিলাম। ভয় পাই এ কারণে। গতকাল বিএনপি একটা বড় সমাবেশ করেছে। এখন আমরা ১৮ তারিখে যে সমাবেশ করব, এটা কিন্তু সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এখানে কোনো পোলারাইজড, ডিভাইসিক পলিটিক্সের মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আমি দেখব দু-একদিনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ; প্লিজ মাফ চাই। আমরা পাল্টাপাল্টি কোনো শোডাউন করতে যাচ্ছি না।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মর্যাদা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, যা ছিল বাঙালির সম্পদ, সেটা আজকে বিশ্বের সম্পদ। যা ছিল বাঙালির প্রামাণ্য দলিল ইতিহাসের। সেটা এখন বিশ্বের ডকুমেন্টারি হেরিটেজ।

‘এটা নিয়ে আমরা কোনো রাজনীতিক ডিভাইসিক পলিটিক্স করতে চাই না। কাজেই সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, এখানে যারা আছেন, বাইরে যারা আছেন, এটাকে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বলা ঠিক হবে না।’

কারণ এই সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেছি বিএনপির সমাবেশের তারিখ ঘোষণার অনেক আগে। ইউনেস্কো যেদিন ঐতিহাসিক ঘোষণা দিল তার দুদিন পরেই।

ওবায়দুল কাদের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সমাবেশ ঘোষণার ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরে বলেন, প্রথমে ৯ তারিখ (নভেম্বর) ছিল। কিন্তু ৯ তারিখ বৃহস্পতিবার ছিল। নেত্রী আমাদের বললেন, কর্মদিবসে করা যাবে না। আর শনিবার ছিল যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর শুক্রবারে করা সম্ভব না। তাই অসুবিধা নেই পরের শনিবারে কর।

এ ব্যাপারে কাদের আরো বলেন, এই সেন্সটুকু আমাদের সব রাজনৈতিক দলের থাকা উচিত। আমাদের পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা কোনো র‌্যালি করলে সেটা শুক্রবার বা শনিবার করব। অন্যদিন (কর্মদিবস) করব না।

গতকাল বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে যারাই বেশি নীতিকথা বলে, যারা জীবনে দুর্নীতিবাজ। কী বলব, এখন এই দেশে যারা নষ্ট রাজনীতির সূচনা করেছিল, এই দেশে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষক, এই দেশে যারা জঙ্গিবাদের বিস্তার করেছিল, তারাই যদি আজ বলে, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন করবে; তাহলে ভূতের মুখে রাম নাম, ধ্বনি নয় কি?

প্রতিহিংসার বিদ্বেষে যারা শত শত মানুষ আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। বাস ড্রাইভার, কন্ডাক্টর, স্কুলের শিক্ষক, পরীক্ষার্থী- কেউ বাদ যায়নি। এখন তারা বলে, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে। এজন্যই বললাম, দুর্নীতিবাজরা এখন নীতিকথা বেশি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (বিএফইউজে) মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক, দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।