সিলেট সিক্সার্সের তিনে তিন

আপডেটঃ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৮, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,সিলেট  : ‘ছোট্ট’ একটি দল নিয়ে আর কত চমক দেখাবে সিলেট সিক্সার্স। একের পর এক বড় জয়। তাও আবার হেভিওয়েট দলের বিপক্ষে। ঢাকাকে তুলোধুনো করে মাটিতে নামিয়ে এনে প্রথমেই চমক দেয় সিলেট। দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়।

আজ মঙ্গলবার রাজশাহীর বিপক্ষে রান উৎসব করেছে দলটি। ঘরের মাঠে প্রায় ১৮ হাজার দর্শকদের সামনে সিলেট যেভাবে পারফর্ম করছে তাতে চমকে না যাওয়ার উপায় নেই! সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতবারের রানার্সআপ রাজশাহী কিংসকে ৩৩ রানে হারিয়ে তিন করে ফেলল সিলেট সিক্সার্স।

আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০৫ রান করে সিলেট। রোববার ঢাকা করেছিল ২০২ রান। মাত্র ৬ উইকেটে পাহাড় সমান রানের পুঁজি পেয়ে রাজশাহীকে দারুণ চ্যালেঞ্জ জানায় নাসিরের দল। পরবর্তীতে রাজশাহী আর পেরে উঠেনি। ১৭২ রানে আটকে যায় তাদের ইনিংস।

বরাবরের মতো সিলেট সিক্সার্সের ত্রাতা দুই ওপেনার উপল থারাঙ্গা ও আন্দ্রে ফ্লেচার। টানা তৃতীয়বারের মতো বড় জুটি গড়েন তারা। প্রথম ম্যাচে ১২৫ করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের জুটিতে করেছিল ৭৩ রান। আজও তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে এল ১০১ রান, সেটাও ১০.৩ ওভারে। ৩০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৮ রান করার পর রান আউটে কাটা পড়ে ফ্লেচারের ইনিংস। সঙ্গী হারানোর পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি থারাঙ্গা। তবে টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি বাঁহাতি এ ওপেনার। ৩৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করে আউট হন জেমস ফ্রাঙ্কলিনের বলে।

প্রথম দশ ওভারে ৯৮ রান করা সিলেট পরের দশ ওভারে তুলে ১০৭ রান। মূলত শেষ ৫ ওভারে ৭০ রান করে সিলেট। এর পুরো কৃতিত্ব দুই বিদেশি দানুস্কা গুনাথিলাকা ও রস হোয়াইটলি। শ্রীলঙ্কান গুনাথিলাকা প্রথমবারের মতো বিপিএল খেলতে নেমে ২২ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৪২ রান করেন। আর হোয়াইটলি শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ১২ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।

বাজে বোলিংয়ের পাশাপাশি রাজশাহীর বোলাররা অতিরিক্ত ১৩ রান দিয়েছে। কোনো বোলারই সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। মিরাজ ২ ওভারে ২০, ফরহাদ ৪ ওভারে ৪১, হোসেন আলী ৩ ওভারে ৩৬ রান ব্যয় করেন। ২ উইকেট নেওয়া কেসরিক উইলিয়ামস ৩৯ রান দেন ৪ ওভারে।

বিপিএলে ১৯৭ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কোনো দলের। ২০১৩ সালে রংপুরের দেওয়া ১৯৭ রানের টার্গেটে সিলেট ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় পেয়েছিল। জিততে হলে আজ রাজশাহীকে রেকর্ড গড়তেই হতো। কিন্তু সেরকম কিছুই হলো না। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।

তবে সিলেটকে বেশ ভালো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল রাজশাহী। দুই ওপেনার শুরুতেই ৫০ রানের জুটি গড়েন ৫ ওভারে। ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসে বিপদজনক হয়ে উঠা এ জুটি ভাঙেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। দ্বিতীয় বলে ফিরিয়ে দেন ১৬ বলে ২৪ করা মুমিনুল হককে। এক বল পরই রনি তালুকদারকে সাজঘরে পাঠান তিনি। ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর রহিম (১১) ও সামিত পাটেল (০)। দুটি উইকেটই নেন আবুল হাসান। ওপেনিংয়ে নামা লুক রাইট একাই লড়ে গিয়েছেন। ৩৬ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির পর থেমে যায় তার ইনিংস। বিপিএলে সবথেকে বাজে বোলিংয়ের রেকর্ড গড়া কামরুল ইসলাম রাব্বী লুক রাইটকে ফেরান ৫৬ রানে। এরপর আর পেরে উঠেনি রাজশাহী। শেষ দিকে জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৩৫ রান করে পরাজয়ের ব্যবধান কমান মাত্র।

বল হাতে সিলেটের আবুল হাসান ও লিয়াম প্লাঙ্কেট ৩টি করে উইকেট নেন।