বাবা-মা হত্যা : ঐশীর যাবজ্জীবনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেটঃ ২:০৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২২, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :মালিবাগে নিজ ফ্ল্যাটে স্ত্রীসহ পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে বিচারিক আদালতে দেয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে হাইকের্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার সকালে ৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ করেন রায় প্রদানকারী বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। 

ঐশী রহমানের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে গত ৫ জুন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানা ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়।

ঐশীর মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্ত, পারিবারিক ইতিহাস, সর্বোপরি বয়স বিবেচনা করে এ রায় দেয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়। আপিল শুনানিকালে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ঐশীর বক্তব্য শোনেন হাইকোর্ট। গত ১০ এপ্রিল কারাগার থেকে হাইকোর্টে হাজির করে বিচারপতির খাসকামরায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যায় কারা কর্তৃপক্ষ।

বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকরের আদেশের বিরুদ্ধে মেয়ে ঐশী রহমানের খালাস সংক্রান্ত আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।

গত ১২ মার্চ ডেথ রেফারেন্স ও মামলায় আনা আপিল শুনানি শুরু হয়। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকরের আদেশ সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেয়ে ঐশী রহমান খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আপিল করেন।

ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকরের আদেশ সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের রায়ের নথিসহ ডেথ রেফারেন্স ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। এর আগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় ১২ নভেম্বর নিহতদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদের আদালত।

রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়। মামলার অন্য আসামি ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে দু’বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও একমাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেয়া হয়।

দু’টি খুনের জন্য পৃথক দু’টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। দু’টি অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা করে ঐশীকে ফাঁসি ও মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালত ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। গত বছরের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দু’টি চার্জশিট দাখিল করেন।