ঋণ খেলাপির রাশ টানতে তালিকা প্রকাশের সুপারিশ

আপডেটঃ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১১, ২০১৭

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক :এখন থেকে খেলাপি ঋণের রাশ টেনে ধরতে ঋণ খেলাপিদের নামের তালিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বৃহৎ ঋণ খেলাপিদের পৃথক ডেট মনিটরিংয়ের আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়’ শীর্ষক ওয়ার্কসপের সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসার পর তার কাছে উপস্থাপনের জন্য একটি সার-সংক্ষেপ তৈরি করা হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সরকারি ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণ কমাতে হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য ঋণ খেলাপিদের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশ করা যেতে পারে বলে বৈঠকে মতামত প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, দেশে কত টাকা খেলাপি ঋণ আছে, তাদের ঋণের আসল ও সুদের অংক কত, কতবার ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, প্রতিবারে কত সুদ মওকুফ পেয়েছেন, কখনো ঋণ খেলাপি অবস্থান থেকে তার উত্তরণ হয়েছে কি-না ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তথ্য আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ খেলাপিদের বিশেষত বৃহৎ ঋণ খেলাপিদের একটি তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য এর আগে ২০১৫ সালে সরকার ঋণ খেলাপিদের শ্বেতপত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা থেকে পিছিয়ে আসে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ১০০ কোটি টাকার ওপরে বৃহৎ ঋণ খেলাপিদের আলাদা ডেট-মনিটরিংয়ের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বৃহৎ ঋণ খেলাপিদের ডেট-মনিটরিংয়ের আওতায় আনলে খেলাপি ঋণে লাগাম টানা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে সব ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ডেট রিকভারি ম্যানেজমেন্টের কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক রিট পিটিশন মামলা করতে হলে ব্যাংকের পাওনা অর্থের ৫০ শতাংশ জমা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও বলা হয়। অর্থমন্ত্রীর জন্য তৈরি করা সার-সংক্ষেপে বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী-এ চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। যেটি মোট ঋণের সাড়ে ২৩ শতাংশ। চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শুধু শীর্ষ-২০ খেলাপির কাছে আটকে আছে ৯ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের যা প্রায় ৩৪ শতাংশ। জুন ’১৭ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ১ লাখ ১২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, মোট ঋণের যা ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এক বছর আগে ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৩ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল খেলাপি। জুনে সোনালী ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ খেলাপি। জনতার ৩৮ হাজার ১০৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, অগ্রণীর ২৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৯০৪ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি। ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে শুধু শীর্ষ-২০ খেলাপির কাছে আটকে আছে ৯ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। গত জুনে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ-২০ খেলাপির কাছে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। জনতা ২ হাজার ২১৮ কোটি, অগ্রণী ১ হাজার ১৬৯ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আটকে আছে।

বৈঠকে বলা হয়, ঋণ খেলাপির সংস্কৃতির লাগাম টেনে না ধরা হলে দেশের অর্থনীতিতে যে কোনো সময় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খেলাপি ঋণের সংবাদ প্রকাশ হওয়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে সেসঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির রাশ টেনে ধরতে  হবে।