ডিমের হালি ১২ টাকা!

আপডেটঃ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৮, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :মাত্র ১২ টাকায় ১ হালি ডিম কিনতে পারবেন রাজধানীবাসী। এতে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়বে মাত্র ৩ টাকা। এই সুযোগ আসবে মাত্র ১ দিনের জন্য। আগামী ১৩ অক্টোবর ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় এতো ডিম কেনা যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ১৩ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবসে রাজধানীর ফার্মগেটে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলায় বাজারদরের চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে ডিম বিক্রি করা হবে। অর্থাৎ বাজারে যে ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা করে বিক্রি হয়, সেটি মেলায় বিক্রি হবে প্রতি পিস ৩ টাকা করে। 

সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলা চলবে। একজন ভোক্তা মেলায় সর্বোচ্চ ৯০টি ডিম কিনতে পারবেন। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদফতর যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, মেলায় বড় বড় পোল্ট্রি ফার্ম, ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ডিম দিয়ে নানা ধরনের খাবার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো অংশ নেবে। এছাড়া ইদানিং অর্গানিক ডিম উৎপাদনের প্রবণতা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশ নেবে।

বাণিজ্যিকভাবে এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়েল পাখি ও হাঁসের উৎপাদন হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশ নিয়ে বাজারদরের চেয়ে অর্ধেক দামে ডিম বিক্রি করবে। দেশের খাবার উপযোগী যেসব ডিম উৎপাদিত হয়, তার সবই মেলায় পাওয়া যাবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর হরেক রকমের ডিম নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করবে। বাজারদরের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি প্রসঙ্গে অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, পোল্ট্রি ফার্মগুলো পাইকারিভাবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ টাকা দরে প্রতি পিস ডিম বিক্রি করে। খুচরাবাজারে সেগুলো ৮ টাকা করে বিক্রি হয়। এখানে তারা কোম্পানির দামে ডিম বিক্রি করবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্রেতাদের একটি সম্পর্ক তৈরি হবে। ভোক্তারা যত খুশি ডিম কিনে নিতে পারবেন। ডিম দিয়ে নানা স্বাদের খাবার তৈরি করে বিক্রিও করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিম কীভাবে উৎপাদন হয়, সেগুলোও আগত দর্শকদের দেখানো হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানায়, ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। অল্প খরচে আমিষের জোগান দেয়ার উপকরণ। এ কারণেই মানুষের কাছে ডিমের উপকারিতা তুলে ধরতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এই উপলক্ষে দিনব্যাপী একাধিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এগুলোতে ডিমের গুণাগুণ, ডিম উৎপাদনের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হবে। শুধু ঢাকায় নয়, দেশব্যাপী ডিম দিবস পালিত হবে। এই উপলক্ষে র্যালি, সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। জেলাপর্যায়েও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ডিম হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য উপাদানে ভরা একটি পণ্য। এতে সব ধরনের খাদ্য উপাদন আছে। সুলভমূল্যে পর্যাপ্ত আমিষের ভরসা ডিম। আগে বলা হতো- ‘প্রতিদিন একটি করে পেঁপে খান, বাড়ির বাইরে ডাক্তার তাড়ান’। ডিম নিয়ে গবেষণার ফলে এখন বলা হচ্ছে প্রতিদিন ‘তিনটি করে ডিম খান, বাড়ির বাইরে ডাক্তার তাড়ান।’