“একটি মেয়ে বাচ্চাসহ এসে বলে সে আমার স্বামীর স্ত্রী… “

আপডেটঃ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৫

ডেস্ক:

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মা জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আপু আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৬ বছর, আমি যখন অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ি আর আমার স্বামী একই কলেজের বড় ভাই ছিল। পারিবারিক একটা কারণে প্রায় হুট করেই আমরা দুজনে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করি। আমার এখনকার সমস্যার সাথে এই প্রসংগের কোন সম্পর্ক নেই বলে এখানে আর উল্লেখ করলাম না।

আমাদের বিয়ের পর ভালই কেটে যাচ্ছিল, আমিও আমার পড়ালেখার জন্য সন্তান নেইনি। তো আমার মাস্টার্স কমপ্লিট হবার পর আমরা যখন সন্তান গ্রহনের প্ল্যান করছিলাম তখন আর বেবি হচ্ছিল না, ডাক্তার দেখানোর পর জানতে পারলাম যে সমস্যা আমার, আমার থাইরয়েড হরমোনের প্রব্লেম, কিন্তু বড় কিছু না। বেবি হবে। যাই হোক ঢাকা – কোলকাতা যখন যার কাছে যেই ডাক্তারের কথা শুনেছি তার কাছে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি, হরমোনের চিকিৎসা তুলনামূলক কিছুটা ব্যয় বহুল ছিল, তারপরও আমার স্বামী কোনদিন আমাকে চিকিৎসা বা বাচ্চা না হওয়া নিয়ে একটা কটু কথা বলেনি। বরং আমি যখন মন খারাপ করতাম ও আমাকে সাহস ও সান্তনা দিত। আমি কখনো আমার স্বামীর মধ্যে আমার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কোন অভাব পাইনি। সে ওদের পরিবারে যেমন ভাল, আমাদের পরিবারেও জামাই হিসেবে খুবই ভাল ছিল।

যাই হোক, এভাবে দেখতে দেখতে আমার বিয়ের দশ বছরের সময় আমাদের জীবন আলো করে  একটা কন্যা সন্তান হয়। আমার জীবন পরিপূর্ণতা পায়। এভাবেই চলছিল। আমার মেয়েটার যখন সাড়ে তিন বছর তখন একদিন হঠাৎ দুপুরে আমার বাসায় দুজন মহিলা আসে একটা ছোট ছেলেকে নিয়ে, আমার স্বামীও তখন বাসায় ছিল, ওরা বলল যে ওদের মধ্যে একজন আমার স্বামীর স্ত্রী আর ছেলেটা ওদের! ছেলেটার বয়স তখন বলল পাঁচ। একথা শুনে তো আমি পুরোপুরি হতভম্ব।  কিছুতেই আমার স্বামীর স্বভাব, আমার সাথে ওর ভালোবাসাময় সুন্দর সম্পর্কের সাথে কিছুই মেলাতে পারছিলাম না। ওকে জিজ্ঞেস করি, ও পরিষ্কার কিছুই বলছে না। আবার ওই মহিলা যা যা বলছিল সেগুলোকেও খুব জোর দিয়ে নিষেধ করছে না, (এখানে বলে রাখি যে আমার স্বামী একটু চুপচাপ ঠান্ডা স্বভাবের মানুষ। রাতে মাঝে মাঝে একটু দেরি করে বাসায় ফিরলেও কখনোই রাতে বাইরে থাকেনি।)

তারপর মহিলা চলে যাওয়ার পর ওকে আমি রাগে দুঃখে অপমানে অনেক চিল্লাচিল্লি করে যখন জিজ্ঞেস করি, তখন ও স্বীকার করে। মহিলা বললে ভুল হবে, আসলে মেয়ে আর মেয়েটার বয়স আমার চেয়ে অনেক কম, যদিও দেখতে আমাকেই কম মনে হয়। আর আমার স্বামীর সাথে আমার বয়সের তফাৎ নয় বছর। যাই হোক, ওই মেয়ে নাকি পরিচয় হবার পর ওর সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। এক পর্যায় সেও দুর্বল হয়, আর  যখন বুঝতে পারে যে সে ভুল করছে তখন থেকে মেয়েটা ওকে ব্ল্যাক্মেইল করে যে ওর সাথে সম্পর্ক না রাখলে ও আমাকে এসে সব বলে দিবে। আর আমার স্বামী আমাকে এও বলে যে বাচ্চাটা ওর না, ওই মেয়ের নাকি অন্য  অনেক ছেলের সাথে রিলেশন ছিল, ওদেরই কারো একজনের বাচ্চা। আমার স্বামীকে ব্ল্যাকমেইল করে স্ত্রী ও বাচ্চার অধিকার আদায় করে যাচ্ছিল। আমাকে ও বলল যে আমার ভয়েই এতোদিন সে ওদের সাথে সম্পর্ক রেখেছিল আর এখন যখন আমার সামনে ব্যাপারটা চলেই এসেছে আর ওর কোন পিছুটান নেই। সে আর ওদের সাথে সম্পর্ক রাখবেনা, আমাকে কোর আন শরীফ ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করে।

আমি আমার সংসার, বাচ্চা, সমাজ, ভালবাসা সব কিছু বিবেচনা করে ব্যাপারটা না ভুলতে পারলেও মেনে নেই এবং মোটামোটি স্বাভাবিক ভাবে কাউকে কিছু না বলে জীবন যাপন করি। আর আমার স্বামীও আগের মতই ছিল। দু একবার ঝগড়ার মাঝে এই প্রসঙ্গ আসলেও কোন সমস্যা ছিল না। এই ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ করে আমার স্বামীর ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। তো এর সাথে সাথেই আমরা মানে আমি, আমার মেয়ে ও আমার স্বামী চেন্নাই চলে যাই ওর চিকিৎসার জন্য। সেখানে প্রায় এক মাস থাকি। ওর একটা সার্জারি হয়, তারপর দেশে ফিরে আসি। অপারেশনের পর আমার স্বামী খুব একটা বাইরে যেত না, বাসাতে যতটা পারত ব্যবসার কাজ করত আর বাকিটা সময় রেস্ট নিত। কারণ ডাক্তাররা বলেছিল যে ওর আরেকটা বড় অপারেশন করতে হবে ছয় মাসের মধ্যে, চোখে একটু কম দেখত। এর মাঝে বাংলাদেশে আসার তিন চার দিন পর আমি ওর মোবাইলে অনেকগুলো ম্যাসেজ ওপেন করা হয়নি দেখে ম্যাসেজগুলো ওপেন করে দেখে কেটে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা ম্যাসেজ দেখলাম ওই মেয়ের যেখানে লেখা যে -“টাকা নেই, যেই টাকা দিয়েছ শেষ হয়ে গেছে, কল মি।”

আমি এগুলা দেখে ওকে জিজ্ঞেস করলে ও বলে যে ওই মেয়ের সাথে ওর আগের মতো কোন সম্পর্ক নেই। শুধু টাকা দিয়ে গিয়েছে ওর মুখ বন্ধ করতে যেন কাউকে কিছু না বলে। এখানে বলে রাখি যে আমার স্বামী রাজনীতির সাথেও জড়িত আছে। কিন্ত আড়াই বছর আগে যখন ব্যাপারটা প্রথম সামনে আসে তখন ও যতটা নমনীয় ছিল, এবার পরিস্থিতি বদলে যায়। ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছিল যে আমি আমি অসুস্থ মানুষ তুমি আমাকে কোথায় সেবা করবা তা না ,তুমি আমাকে এসব জিজ্ঞেস করে অত্যাচার করছো। আবার ওই মেয়ে যখন ফোন করত আমি লাউড স্পিকার দিতে বললে দিতে চাইত না, ফোনটা আমার কাছে নিয়ে নিয়েছিলাম। যখন ওই মেয়ে ফোন দিত আমি ওকে দিয়ে আমার সামনে স্পিকারে কথা বলতে দিতাম, তখন  ওই মেয়ে যেভাবে কথা বলত তার সাথে আমার স্বামীর বর্ননা মিলত না। অথচ আমি যখন বলি যে তোমাকে যে কোন একটা দিক বেছে নিতে হবে, তখন সে ওই মেয়ের ব্যাপারে বাজে করে কথা বলতো আর আমাদেরকে ছাড়া ও থাকতে পারবেনাও বলে।

আমি একা কিছু বুঝতে না পেরে আমার বোনদেরকে বলি ও আমার দেবরকেও বলি ওর সামনে, সে ওদের সামনেও বলে যে ওই মেয়ে খারাপ। জোর করে মানসন্মানের ভয়ে শুধু টাকা দিয়ে গিয়েছে। আর ওই বাচ্চা কিছুতে ওর না। কিন্তু আমার সাথে ওর মাঝেমাঝে করা খারাপ ব্যবহার, এবং ওই মেয়ের করা আরো ম্যাসেজ দেখার পর দ্বিতীয় বারও যখন আমার কাছে মিথ্যে বলেছে আমি এখন কিছুতে আর ওকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। আমার শ্রদ্ধা,ভক্তি ভালোবাসা মনে হয় কিছুই নেই। গত ছয় মাস শুধু হিসেব মিলাতেই চেয়েছি, আর ওর সাথে ঝগড়া করেছি কেন আমার সাথে প্রতারণা করল।আমার তো কোন অপরাধ ছিল না। আজ আড়াই মাস আমরা দেশের বাইরে আছি ওর চিকিৎসার কারণে। কিন্তু আমি কী করবো?

না আমি ওকে ছাড়তে পারছি, না আমি ওর সাথে থাকতে পারছি, প্রতিনিয়ত আমার আত্মসন্মান ওর বিশ্বাসঘাতকতার কাছে হেরে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমাকে সবার সামনে অভিনয় করে যেতে হচ্ছে ভালো স্ত্রীর ভূমিকায়। যেহেতু ওর চিকিৎসার কারণে আমি দেশের বাইরে আছি, ওর অনেক বড় অপারেশন হল। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও মোটামোটি ভাল, এখন আবার ঐ মেয়ে ফেসবুকে আমার স্বামীর সাথে ছয়/ সাত বছর আগের তোলা ( ঐ ছেলে সহ) কিছু ছবি আমার স্বামীর স্ত্রী পরিচয়ে আপলোড করেছে। এতদিন তো ব্যাপারটা আমাদের খুবই গোপনীয় ছিল চার পাঁচ জনের মধ্যে , এখন তো সামাজিক ভাবেও আমি হেয় হব বিনা অপরাধে।

আপু ব্যাপারটার কোন সমাধান পাচ্ছি না। কী করা উচিৎ আমার, একজন তৃতীয় কোন ব্যাক্তির দৃষ্টি কোন থেকে কি হতে পারে আমার সমস্যার সমাধান তাই আপনাকে লিখলাম।”

পরামর্শ:
আপু, প্রথমেই আমি করজোড়ে ক্ষমা চাইছি জবাব দিতে দেরি হলো বলে। আপনি এত ভয়ানক সমস্যায় আছেন যে আপনার চিঠির উত্তর দেয়াটা অনেক বেশি জরুরী ছিল। দ্বিতীয় যে কারণে উত্তর দিতে দেরি হলো, সেটা হলো মন খারাপ। আপনার চিঠিটি পড়ে আপনার ও আপনার মেয়েটির জন্য যে কী পরিমাণ কষ্ট হয়েছে সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। আমি বারবার নিজেকে আপনার স্থানে বসিয়ে কল্পনা করতে চেষ্টা করেছি যে এমন অবস্থায় আমি হলে কী করতাম। অবশেষে কিছু জবাব পেয়েছি। আমি জানিনা আপনি এই লেখা পড়ছেন কিনা, কিন্তু যদি পড়ে থাকেন তো আমার কথাগুলো একটু বিবেচনা করবেন।

আপু, আপনিও জানেন যে আপনার স্বামী সত্য কথা বলছে না। সে আপনাকে যেমন বলছে যে মেয়েটি খারাপ, মেয়েটিকেও বলছে যে আপনি খারাপ। এটা বলে সে দুই দিকেই সম্পর্ক রাখছে। মেয়েটি তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে সম্পর্ক করেছে বা রেখেছে, সেটাও আমার মনে হচ্ছে না। বরং আপনার সন্তান হচ্ছে না দেখে তিনিই মেয়েটিকে বেছে নিয়েছেন। এই কারণেই কখনো আপনার সন্তান না হওয়া নিয়ে তাঁর সমস্যা হয়নি। আমার ধারণা আপনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন যে এমন আরও মেয়ের সাথে আপনার স্বামীর সম্পর্ক ছিল বা আছে। আপু, খুব বেশি ভালো জিনিস কখনোই ভালো হয় না। আপনার স্বামী সবার সামনে খুব ভালো এই কারণে যে নিজের অনেক খারাপ দোষ তাঁকে ঢেকে রাখতে হয়।

মেয়েটিকে তাঁর ছাড়ার ইচ্ছা থাকলে সে অনেক আগেই ছেড়ে দিতে পারতো। কিন্তু সেটা তিনি করেন নি। আপনাকে তাই বলেছেন, যেটা শুনলে আপনি ভালো থাকবেন। মেয়েটিকেও তাই বলেছেন, যেটা শুনলে মেয়েটি ভালো থাকবে। তাছাড়া, মেয়েটির ঘরে তাঁর একটি পুত্র সন্তান আছে, সেটাও সম্পর্ক রাখার একটি বড় কারণ। আপনার সন্তানটি কন্যা, তো বলাই বাহুল্য যে আপনার স্বামীর কাছে ওই ঘরের ছেলেরই দাম বেশী।

আমি জানি আপু, আপনার আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লাগছে। কিন্তু আপনাকে এখন হেরে গেলে বা পিছিয়ে গেলে চলবে না। যদি যান, আপনার সাথে সাথে আপনার মেয়েটিও কিন্তু হেরে যাবে ও বঞ্চিত হবে। আপনি কিছুতেই নিজের সংসারের দাবী ছাড়বেন না। কোন ভাবেই নয়। আপনার সাথে পরিবার আছে, সমাজ আছে, আইনও আছে। আপনি ছেড়ে না গেলে আপনার স্বামী বা ওই মেয়ে জোর করে কিছুই করতে পারবে না। মেয়েটি দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। ভালো একজন মানুষ কখনো আরেকজনের ঘর ভেঙে নিজের সংসার সাজায় না।

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনি চাইলে অনায়াসেই কেস করতে পারেন স্বামীর বিরুদ্ধে। যেহেতু সে রাজনীতি করে, তাই নাম খারাপ হবার ভয়ে সে চাইবে না এমনটা হোক। কারণ আপনি তাঁর সোশ্যাল স্ট্যাটাসের অংশ। এই ব্যাপারটিকেই আপনার কাছে লাগাতে হবে। আপনার স্থানে আমি হলে কী করতাম, সেটা ধাপে ধাপে বলছি।

প্রথমত, আপনি আপাতত স্বামীর সাথে এই ব্যাপারটি নিয়ে কিছুই বলবেন না। একেবারেই কিছু না। স্ত্রী হিসাবে আপনার যা করণীয় করে যান। পরিবার বা সমাজের সবাই যেন দেখতে পায় যে আপনার চাইতে ভালো স্ত্রী আর হতে পারে না। মেয়েকে স্বামীর দিকে ঠেলে দিন। যতটা সম্ভব মেয়ের সাথে তাঁর বন্ধন দৃঢ় করে তুলুন।

দ্বিতীয়ত, ওই মেয়ের ফেসবুক থেকে জানাজানি হবার ভয় পাবেন না। আপনি কোন অন্যায় করেন নি যে আপনি হেয় হবেন। বরং লোকে জানলে ভালো, আপনার স্বামীর ওপরে সামাজিক চাপ বাড়বে। লোকে ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করলে তিনি নিজেই চাইবেন যে ব্যাপারটি শেষ হোক। যার যা ইচ্ছা বলুক, কেবল আপনি কষ্ট করে দাঁতে দাঁত চেপে চুপ থাকবেন।

তৃতীয়ত, একজন তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ওই মেয়েটিকে কিছু কথা জানাবেন। ফেসবুকের এই যুগে কাউকে কিছু জানানো কোন বিষয়ই না। মেয়েটিকে জানাবেন সত্য, বরং একটি বাড়িয়ে। যেমন আপনার স্বামী তাঁকে কী কী মিথ্যা বলেছে, আসলে আপনাদের সাথে স্বামীর সম্পর্ক ভালো, তিনি বলেন যে ওই মেয়েটি খারাপ ও চরিত্রহীন, সন্তানটি অন্য কারো এটাও বলেন, ওই সন্তানকে কিছু দেবেন না ইত্যাদি। সাথে এটাও বলবেন যে বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখতে।  ওই মেয়েটি আরেক নারীর সংসার ভেঙেছে, ভয় তো তাঁর মাঝে আছেই। সে অবশ্যই খোঁজ নিতে আসবে। আর খোঁজ নিয়ে দেখবে যে কথা সত্য, আপনাদের মাঝে সম্পর্ক আসলেই সুন্দর। সে কেবলই একজন রক্ষিতা মাত্র। তাঁর ছেলে বঞ্চিত হবে, এটা যদি একবার তাঁর মাথায় ঢুকে যায় সে নিজেই হাউকাউ শুরু করবে। আপনার স্বামীকে প্রেসার দিতে শুরু করবে আপনাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।

এবং সেই সুযোগ বুঝে আপনি স্বামীকে প্রেসার দিতে শুরু করুন। অর্থাৎ দুইদিক থেকেইতাকে চাপে ফেলুন। তবে সেটা সমাজ ও পরিবারের মাধ্যমে। আপনি সকল মুরুব্বী ও আপনজনদের জানান, তাঁদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করুন যে ওই মেয়েটিকে কাগজ কলেম তালাক না দিলে আপনি আর এই সংসার করবেন না। আপনার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবেন এবং অনুমতি না নিয়ে বিয়ে করায় স্বামীর বিরুদ্ধে কেস করবেন। আপনাকে ও আপনার মেয়েকে রাখতে ওলে ওই মেয়েকে আইনত তালাক দিয়ে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং এটা স্বামীকে লিখিত দিতে হবে। নিশ্চিত থাকুন যে পরিবারের কেউ আপনার বিপক্ষে যাবে না। ওই মেয়েকে কেউ আপনার স্থানে বসাতে রাজি হবে না। আপনি সবাইকেই বলবেন যে এটা আপনি করছেন আপনার মেয়ের জন্য, তাঁর ভবিষ্যতের জন্য। সামাজিক ও পারিবারিক চাপ দিয়ে আপনার স্বামীকে বাধ্য করতে হবে সেই সম্পর্কটি ছিন্ন করতে। সেটার জন্য কঠোর ও নরম দুটিই হতে হবে। তবে আপু, হার মানবেন না। আপনি হেরে গেলে আপনার বাচ্চাটিও হেরে যাবে। আপনার স্বামী সমাজে মান সম্মান যাওয়াকে ভয় পায়। এটাকেই আপনার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করুন।

অনেক দোয়া আপনার জন্য আপু। আমি নিশ্চিত জানি যারা এই চিঠি পড়বেন, সকলেই আপনার জন্য দোয়া করবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য
আমি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা আইনজীবী নই। কেবলই একজন সাধারণ লেখক আমি, যিনি বন্ধুর মত সমস্যাটি শুনতে পারেন ও তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন।  পরামর্শ গুলো কাউকে মানতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ যদি নতুন কোন দিক নির্দেশনা পান  বা নিজের সমস্যাটি বলতে পেরে কারো মন হালকা লাগে, সেটুকুই আমাদের সার্থকতা।