আনন্দময়ীর আগমনে মেতেছে খামারবাড়ি

আপডেটঃ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

সি এন এ নিউজ, ডেস্ক: আকাশ এখন সাদা মেঘের দখলে। ছেঁড়া ছেঁড়া সাদা মেঘের ভেলায় আকাশের রূপ যেন উপচে পড়ছে। শরতের রূপ এখন মানুষের দেহ-মনে। নগরজীবনে কাশফুলের দেখা নেই। তবুও অনুভবের কাশফুলে সেজেছে নাগরিক মন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা। শহরের সূর্য ডুবে গেছে সন্ধ্যার খানিক আগেই। অন্ধকার তাড়াতে সড়কে ও গাড়িতে হেড লাইট জ্বলে উঠছে সবে। আলো জ্বলে উঠল রাজধানীর খামারবাড়ির সড়কেও। 

puza-

এ পাড়ায় আজ শিউলি ফুলের গন্ধ মিলেছিল ভোরবেলায়। এখন ধূপের মনকাড়া গন্ধ। আর ধূপের গন্ধে যেন পবিত্র হওয়ার মেলা বসেছে খামারবাড়ি পূজামণ্ডপে।

puza-

চারদিকে আজ দেবী বন্দনার ধুম পড়েছে। দু’দিন আগে হিমালয় থেকে মা এসেছেন বাপের বাড়ি । মা ভজনে ভক্তকূলের মন আজ বড়ই আবেগী।

এমন আবেগের ডালা মেলে ধরেই সাজানো হয়েছে খামারবাড়ি পূজামণ্ডপ। আলোর কত রূপ! তারই দেখা মিলছে এবার এ মণ্ডপে। গেট সাজানো হয়েছে খানিক দূর থেকেই। মণ্ডপের কাছে আরও গেট। আর তা থেকেই আলোকছটা ছিটকে পড়ছে। আলোর এমন ঝলকানিতে মা দুর্গার রূপে আলোকিত হচ্ছে ভক্তরা।

puza-

মণ্ডপের ভেতর থেকে ক্ষণে ক্ষণে ঢাকে কাঠি পড়ছে। আর সে কাঠির কুড় কুড় শব্দেই মন আন্দোলিত করছে । ঘণ্টা-কাঁসার টিং টিং আওয়াজ, মঙ্গল শাঁখ আর ত্রয়ো স্ত্রীর উলুধ্বনিতে আকুল হয়ে উঠল মন। মা বন্দনায় এত আনন্দ!

এ আনন্দে শরিক হয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষেরাও। সনাতনীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শারদীয় সাজে সেজেছেন অন্যরাও।

puza-

শামীমা নামের এক মুসলমান তরুণী এসেছেন পূজা দেখতে। পরনে লাল-সাদা রঙের শাড়ি, ব্লাউজ। সিঁদুরও লাগানো সিঁথিতে। হাতে শাঁখা।

puza-

বলেন, শরতের রূপ এমনই। তাই সেজেছি। অফিস শেষ করেই মণ্ডপে পূজা দেখতে এসেছি। এত সুন্দর করে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে, তা চোখে না দেখলে শুনে মন ভরত না। ধূপের গন্ধ, ঢাকের শব্দ শুনতেই মণ্ডপে এসেছি।
কথা হয় পূজা নামের এক সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে। তিনি এসেছেন পুরান ঢাকা থেকে। বলেন, দুর্গোৎসব হচ্ছে আমাদের কাছে মহাউৎসব। মায়ের সেবায় আমরা আজ নিবেদিত। আর মা দুর্গার মন জয় করতে যা করার তার সবই মিলছে খামারবাড়ির এ মণ্ডপে।