র‌্যাব পরিচয়ে রুয়েট ছাত্রকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেটঃ ১০:৫২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১১, ২০১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে ‘র‌্যাব পরিচয়ে’ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

নিখোঁজ সাইফুজ্জামান সোহাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তার বাড়ি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়ার তেরোখাদিয়া পশ্চিমপাড়ায়।

 

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে সোহাগকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। তবে র‌্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোহাগকে তারা আটক করেনি। র‌্যাব দাবি করেছে, সোহাগকে ধরতে অভিযান তারা চালায়নি। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না তারা।

 

সাইফুজ্জামান সোহাগের বাবা আক্কাস উজ জামান বলেন, গত বুধবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে ১৫ জনের মতো লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে এসে র‌্যাব বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির গেট খুলতে বলে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে গেট খুলতে চাইনি। অনেক জোরাজুরির পর গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা তিন তলায় সোহাগের ঘরে যায় এবং তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইলের মেমোরি কার্ডসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস চায়। সেগুলো নেওয়ার পরই তারা সোহাগকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে- জানতে চাইলে বলেছে, সকালে থানায় খোঁজ করবেন।’

 

আক্কাস বলেন, ওই সময় তাকে এবং তার স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে ঘিরে রাখে। তারা কথাও বলতে দেয়নি, ছেলের ঘরেও যেতে দেয়নি।

 

তিনি জানান, সোহাগ বিবাহিত। তার স্ত্রী ঢাকায় মেডিক্যালে পড়ে। সোহাগকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বাসায় এসে সে দেখেছে, তার গয়নাও পাওয়া যাচ্ছে না। সোহাগের শ্বশুর শেখ রেজাউর রহমান দুলাল রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের একজন পরিচালক।

 

সোহাগের বাবা আরো বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার সকালে রাজপাড়া থানায় খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়েছে, আমার ছেলে সেখানে নেই। পুলিশ কিছুই জানে না।’  তিনি বলেন, ‘আমরা র‌্যাবের কাছেও গিয়েছি। তারা বলেছে- রাতে আমাদের এলাকায় অভিযানই চালায়নি তারা।’

 

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগের মা বেগম শিরিনউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু র‌্যাব পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা সোহাগের সন্ধান পাচ্ছেন না। ছেলে জীবিত না মৃত তাও জানেন না।

 

শিরিনউজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘র‌্যাব পরিচয়ে’ যারা এসেছিল, তারা সোহাগের সঙ্গে তার সহপাঠী এক ছাত্রীর বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

সোহাগের মা সংবাদ সম্মেলন থেকে তার ছেলের সন্ধান পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মা, বাবা ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনেছি। দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে বলেছি। দলের কারও সঙ্গে সোহাগের মনোমালিন্য হয়েছে বলে শুনিনি।’

 

এ বিষয়ে নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সোহাগের বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তারা এখনো তার খোঁজ পাননি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

এ ব্যাপারে রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মো. আবদুস সালাম জানান, বৃহস্পতিবার সোহাগের বাবা অভিযোগ দিয়ে গেছেন। তবে র‌্যাবের কেউ তাকে গ্রেফতার করেনি।