নরসিংদীতে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে সেবার নামে চরম গ্রাহক হয়রানী ভোগান্তি সহ উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেটঃ ১০:১৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৩, ২০১৭

এম.এ সালাম, সি এন এ নিউজ,নরসিংদী ঃনরসিংদীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অভ্যান্তরে জেলা দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে দেশের অব্যাহত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাঝেও এনালগ পদ্ধতির ব্যাপক দূর্নীতি অনিয়ম’র ফলে গ্রাহক ভোগান্তি চরমাকার বৃদ্ধি সহ উৎকোচ বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে।
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অফিসকলীণ সময়ে সেবা প্রাপ্তিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগতরা সেটেলমেন্ট অফিস থেকে নকশা, খতিয়ান, পর্চা উত্তোলন করতে এসে প্রতিনিয়ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা চরম ভোগান্তি, হয়রানী সহ ব্যাপক দূর্নীতি অনিয়মের ফলে মোটা অংকের উৎকোচ’র শিকার হতে হচ্ছে।
নরসিংদীর দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারী নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে প্রতিনিয়ত সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে খতিয়ান- পর্চা বাবদ ১০০/- টাকা ফি এর স্থলে ৩০০/- টাকা এবং নকশা উত্তোলন বাবদ ৫০০/- টাকার স্থলে ৮-৯০০/- শত টাকা পর্যন্ত গ্রহন সাপেক্ষে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করার এক বিস্ময়কর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারের সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সমূহের বাসত্বায়নকারী দপ্তর সমূহের মাঝে জেলা পর্যায়ে সেটেলমেন্ট অফিসের গুরুত্ব অ-পরিসীম। গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী সেটেলমেন্ট অফিসের স্বার্থন্বেষী একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত আগত শত শত সেবা গ্রহীতাদের পর্চা, নকশা, খতিয়ান প্রদানের নামে সরকার নির্ধারিত ফি এর পরিবর্তে মোটা অংকের উৎকোচ হাতিয়ে নেয়া, কাল বিলম্বসহ ব্যাপক হয়রানীর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্ত্তি, সুনাম, খ্যাতি মারাত্মক ভাবে ব্যাহাত করছে বলে ভূক্তভোগী সেবা গ্রহীতারা জানায়। রায়পুরা উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছেদ মিয়া (৫০) দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে ব্যাপক হয়রানী ভোগান্তি সহ অতিরিক্ত উৎকোচ নেয়ার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত ০৩-০৪ মাস যাবৎ খতিয়ান-পর্চা, নকশা উত্তোলনে এসে অন্যান্য ভূক্তভোগীদের মত আমাকেও ব্যাপক হয়রানী-ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অবশেষে কোন উপায় খোঁজে না পেয়ে একই দপ্তরের কর্মরত অফিস সহায়ক উৎকোচ বাণিজ্যের মূল হোতা মোঃ মফিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তিনি আমাকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে হাতে নাতে পর্চা নকশা উত্তোলন করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। চরম হয়রানী সহ ভোগান্তির বিষয়টি এবং অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ১০০/- টাকার পর্চা ৩০০/- এবং ৫০০/- টাকা নকশা ৮৫০/- টাকায় প্রদান সাপেক্ষে তা গ্রহণ করতে সক্ষম হই। নরসিংদী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ব্যাপক দূর্নীতি অনিয়ম সহ সেবা গ্রহিতাদের চরম ভোগান্তির এবং উৎকোচ বাণিজ্যির মূল হুতা মোঃ মফিজুল হকের দূর্নীতির চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাসকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি জেনে বিস্মিত হয়। তিনি অতিসম্প্রতি নরসিংদীতে যোগদান করায় দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের বিস্ময়কর এ সকল ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নয় বলে জানিয়ে দ্রুততার সাথে উক্ত ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন। অপর দিকে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এর সঙ্গে উপরোক্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অফিসের দূর্নীতি, অনিয়ন, উৎকোচ বাণিজ্য, সেবা গ্রহিতাদের ভোগান্তির বিষয় সমূহ সম্পর্কে অবহিত নয় মর্মে অস্বীকার করে প্রতিবেদকে একই দপ্তরের কাননগো মোঃ আবু তাহের’র সঙ্গে যোগাযোগের জন বলেন। সে মোতাবেক প্রতিবেদক তাৎক্ষণিক উপরোক্ত বিষয়ে আবু তাহের সাহেবে’র সাথে যোগাযোগ করিলে তিনিও বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে এরিয়ে যেয়ে ঘটনাটি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেদককে বলেন ঘটনার সত্যতা পেলে আপনারা সংবাদ পত্রে লিখতে পারেন।