ময়মনসিংহে নির্বাচনী হাওয়া ভোটারদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে যারা

আপডেটঃ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০১৫

নিজস্ব প্রতিদেবকঃ ময়মনসিংহে ২১ টি ওয়ার্ডে চলছে পুরোদমে চলছে নির্বাচনী হাওয়া । পৌরসভা মেয়র এবং  কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী মাঠে নামার জন্যে অনেকেই এখন পুরোদমে প্রস্তুতি পর্ব সারছেন। মনোনয়ন গ্রহন এবং নির্বাচনী পুর্ব প্রস্তুতিতে কেউ বা ঢালছেন অঢেল অর্থ আবার কেউবা এগিয়ে চলেছেন জনকল্যানে তাদের অতীত অবদানের ঝুলি নিয়ে। নির্বাচনী আবহাওয়া কে আরো বেশি সরগরম করে তুলছে রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের দল বদল।

সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অঘোষিতভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহন করছেন। আবার নির্বাচনী আবহাওয়া কে পাল্টে দিতে অনেক সুবিধাবাদী নেতা মেতে উঠেছেন দলবদলের মহাউৎসবে। বিএনপি ও জামায়াত এমনকি জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন আবার অনেকে দলের সমর্থন পাওয়ার অপোয় অপেক্ষমান।

তবে, এসব দলত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে চলছে আবার তর্ক বিতর্ক। কোন কোন প্রবীন আওয়ামী নেতা বলছেন এসব নতুন করে দলে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা সাধারনত সুবিধাবাদী প্রকৃতির এরা আজ আমাদের কাল আবার অন্যের । এসব ব্যক্তিকে দলে ভিড়ানোকে তাই খুব একটা ভাল চোখে দেখছেন না। আবার অনেক নেতা মনে করছেন এসব নতুন সদস্যরা দলের জন্যে বাড়তি শক্তি এবং আসন্ন নির্বাচনকে আওয়ামী রাজনীতিতে এরা সহায়ক শক্তি হিসেবে বেশ কাজে দিবে। তবে প্রার্থীদের হিসেব নিকাশ যাই হোক না কেন ভোটারদের চাহিদা এবং অভিরুচি একেবারেই উল্টো।

তারা দলমত নির্বিচারে যেসব ব্যক্তি পুর্বে এবং বর্তমানে এলাকাবাসী এবং শহরবাসীদের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকেই প্রাধান্য দিবেন এমনটাই আভাস পাওয়া যায় সরেজমিন জনমতে। আসন্ন নির্বাচনের মাঠে সাধারন জনগনের মতামত এবং সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ধরে রেখেছেন। এসব প্রার্থী বিকল্প হিসেবে কাদেরকে বেছে নেওয়া যায় এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তারা। তাই এটা সহজভাবে প্রতীয়মান যে, এসব ব্যক্তিই একমাত্র এবং বিকল্পহীন পছন্দ। সাম্প্রতিক একটি বেসরকারী সংস্থার এক জনমত জরিপে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

এসব জরিপে যারা অংশগ্রহন করেছেন তারা মূলত ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ময়মনসিংহ পৌর এলাকার স্বানামধন্য এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, গৃহিনী, কর্মজীবী মহিলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ মোট ১১২৩ জনের মতামতের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়া যায়। মেয়র প্রার্থী এবং আগামীতে যাকে নগর পিতা হিসেবে কামনা করেন এমন ব্যক্তির মধ্যে প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু। অল্পভাষি এ মেয়রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দলীয় ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা বিবেচনা করলে এটা সহজভাবে বলা যায় সুষ্ঠু এবং পরিকল্পিত রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে বেশ ভাল একটি অবস্থানে তুলে আনতে পেরেছেন। এবং নিজেকে সুষ্ঠু রাজনীতির বাহক হিসেবে ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেন রাজনৈতিক দলের সীমানার বাইরেও। রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন সর্বদা নিবেদিত প্রান এবং একজন নগর পিতা হিসেবে সকলের প্রতি ছিলেন দায়িত্বশীল।

রাজনীতিতে বেশ অনুকুল অবদান এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফর সঙ্গীও হয়েছেন। নগর পিতা হিসেবে ময়মনিসংহে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মান করেছেন বেশ কয়েকটি স্মৃতিস্তম্ভ। এবং বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে এবং তাদের বীরত্বগাঁথা স্মৃতিকে সবচেয়ে বেশি সম্মানীত করার প্রচেষ্টা করেছেন তিনি ।

যাঁর প্রমান মেলে ময়মনসিংহ পৌর এলাকার সার্কিট হাউজ, বিপিন পার্ক, টাউন হল সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মোড়ে মোড়ে। তাঁর এই অবদান শুধু ময়মনসিংহ জেলার বিবেচনায় নয় এটা সমগ্র বাংলাদেশে মৃুক্তিযোদ্ধাদের অশেষ স্মৃতির শ্রেষ্ঠ বাহক হিসেবে নিবেদিত প্রান পুরুষ বলা যায় জনাব ইকরামুল হক টিটুকে। নগর পিতা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন অসংখ্য সামাজিক কল্যানমূলক কর্মকান্ডেও। পৌর এলাকায় স্থাপন করেছেন জয়নাল আবেদিন পার্ক। সেখানে আশে পাশে নগরবাসীর বিনোদনে এবং বিকেল বেলায় হাঁটাচলার জন্যে তৈরি করে দিয়েছেন সুন্দর অবকাঠামো এবং সু প্রসস্থ রাস্তা। এছাড়া নদীর ওপারে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে হয়েছেন সফল। এসব দিক বিবেচনায় জনসাধারন মেয়র হিসেবে তথাপি পূনরায় তাঁকে নগর পিতা হিসেবে দেখতে চান বলে জানা যায়।

ব্যক্তি এবং রাজনৈতিকতার খাতিরে কোন মানুষই বিতর্কের উর্দ্ধে নয় তবে ইকরামুল হকে টিটুর রাজনৈতিক ফলাফল এবং নগরপিতা হিসেবে ব্যর্থতা এবং অভিযোগের চেয়ে সুনামের পাল্ল­াই অধিক ভারী। এর পরে যাঁর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য করা যায় তিনি হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। রাজনৈতিকভাবে এই আওয়ামী নেতা দলের জন্যে অপর এক নিবেদিত প্রান । দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা সংক্রান্ত কাজে সর্বদা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে বিনা খরচে মামলার জন্যে লড়ে আওয়ামীলীগের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছেন।

ব্যক্তিগত পেশার বাইরে সামাজিক কল্যানে নিজের দায়বদ্ধতাকে সবসময় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে তাঁকে আখ্যায়িত করা যায়। তাই ময়মনসিংহ গফঁরগাও এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে ঁজনগন তাঁেক বিবেচনা করছেন এমন তথ্য জনশ্রুতিতে পাওয়া যায়। ময়মনসিংহ শহরের আরেক প্রান পুরুষ হিসেবে জনসাধারনের নিকট গ্রহন যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছেন ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সুযোগ্য পরিচালক প্রদীপ ভৌমিক। বর্তমান মেয়রের সকল প্রকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে এবং তাঁেক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে দির্ঘদিন একান্ত সহযোগিতা করে আসছেন প্রবীন এ আওয়ামীলীগ নেতা।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ছাড়াও তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সম্মানীত আহবায়ক। ময়মনসিংহের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে তাঁর অবাদন কোন মতেই অস্বীকার করার উপায় নেই। এদিকে ময়মনসিংহের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতী বিবেচনায় ১৪ ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গন্য করা যায়। এবং এই ওয়ার্ডে জনসাধারনের মধ্যে নির্বাচনী আমেজে ভোটার এবং সাধারন নাগরিকদের কাউন্সিলর হিসেকে প্রথম পছন্দ ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সম্মানীত সভাপতি আলহাজ্ব মো: শাহজালাল হৃদয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার এবং একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। রাজনৈতিকতার আড়ালে ব্যক্তি হিসেবেও তিনি অনেক সুপরিচিত আলহাজ্ব মো: শাহজালাল হৃদয়।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের বিষফোঁড়া হিসেবে রয়েছে ময়মনসিংহ শহরের আলীয়া মাদ্রাসার ১৯ নং ওয়ার্ডটি। মাদকের আাখড়া হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় যারা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে রয়েছেন তারাও মাদকের সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এখানে বাস করা বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হঠকারী এবং প্রতারক প্রকৃতির।এদিকে ১৪ নং ওয়ার্ডটিতে জনগনের সার্বিক পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থান হিসেবে তাঁর পাওয়া যায় আলহাজ্ব মো: শাহজালাল হৃদয় এর নাম।

জনমত জরিপ এবং বেসরকারী একাধিক সূত্রে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই একথা বলা যায় যে, নির্বাচনী আমেজে আর যাই হোক না কেন অন্তত উপরের উল্লেখিত ব্যাক্তিদের  সহযোগিতা মূলক মনোভাব এবং ত্যাগ স্বীকারকারী কর্মকান্ড- এ তাঁরা নির্বাচনে ভোটারদের মনকে যোক্তিকভাবে জয় করে নিতে পারবেন বলে এমনটাই আভাস পাওয়া যায়। এখন দেখা যাক সময়ের কাঁটা কোন দিকে ঘুরে।

তথ্য সূত্রঃ অপরাধ সংবাদ