যে গল্প থেকে শিক্ষার আছে অনেক কিছু…

আপডেটঃ ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৫

ডেস্ক:

একবার কামেল বুজুর্গ জন্নুন মিসরি হজে গিয়েছেন। আরাফাতের ময়দানে মোরাকাবায় বসে তিনি শুনলেন, এ বছর সর্বপ্রথম হজ কবুল হয়েছে আহমেদ আশফাক নামে দামেস্কের জনৈক মুচির যিনি হজেই আসেন নি। শুনে সাধক কৌতূহলী হলেন।

দামেস্কে গিয়ে বহু খোঁজাখুজি করে তাকে পেলেন। তার কাছে শুনলেন ঘটনা। মুচি খুব সামান্য উপার্জন করেন। সংসারের খরচ মিটিয়ে যা বাঁচে তা একটু একটু করে জমিয়ে ৪০ বছর ধরে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন হজে যাওয়ার খরচ। যাওয়ার সবকিছু যখন ঠিকঠাক, দিনক্ষণ দেখে যাত্রা করবেন ভাবছেন-এমন সময় ঘটলো একটি ঘটনা।

একদিন তার ছোট ছেলে কাঁদতে কাঁদতে এসে জানালো, অমুক প্রতিবেশীর বাড়িতে সে গিয়েছিলো। রান্নাঘর থেকে মাংস রান্নার গন্ধ পেয়ে একটু মাংস খেতে চাওয়ায় সেই প্রতিবেশী মাংস তো দিলোই না, উপরন্তু তাকে বললো সেখান থেকে চলে যেতে। শুনে আহমেদ আশফাক একটু উত্তেজিত হলেন। এ কেমন কথা! এইটুকু ছেলেকে সামান্য একটু মাংস দিতেও কার্পণ্য!

মুচির চিৎকার শুনে প্রতিবেশী গৃহকর্তা বেরিয়ে এলো। বললো, ভাই, আপনার রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। বাচ্চাটাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে আমারও কম খারাপ লাগে নি। কিন্তু আমি নিরুপায় ছিলাম। জেনেশুনে আপনার ছেলেকে আমি মরা ছাগলের মাংস খেতে দিতে পারি নি। আমাকে মাফ করবেন। এবার আহমেদ আশফাকের অবাক হওয়ার পালা। মরা ছাগল মানে কী? সব খুলে বল। প্রতিবেশী তখন বললো, বেশ অনেকদিন হলো-কোনো কাজ যোগাড় করতে পারছি না। ঘরে যে খাবার ছিলো, তা-ও ফুরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ছেলে-মেয়ে নিয়ে গত কয়েকদিন প্রায় অনাহারেই আছি।

অবশেষে খিদের জ্বালা সইতে না পেরে আজ সকালে বের হয়েছিলাম কিছু জোটে কি না দেখতে। হঠাৎ দেখলাম মাঠের ধারে পড়ে আছে একটা মরা ছাগল। তখনো পচন ধরে নি। তাই ছুরি দিয়ে খানিকটা মাংস কেটে এনে স্ত্রীকে দিয়ে বললাম রান্না করতে। তখনই আপনার ছেলে এলো। কিন্তু আমরা না হয় ক্ষুধার তাড়নায় মরা ছাগলের মাংস খেতে বাধ্য হচ্ছি, আপনার ছেলেকে তো তা খাওয়াতে পারি না। শুনে আহমেদ আশফাক দুঃখে-অনুতাপে-সমবেদনায় কিছুক্ষণ কোনো কথাই বলতে পারলেন না। এরপর তার চোখ ফেটে পানি এলো। প্রতিবেশীকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ভাই আমার! এত কষ্ট নিয়ে তুমি আছো! আমাকে তো একটু জানাতে পারতে।

দৌড়ে গেলেন বাড়িতে। এক ঝটকায় তুলে নিলেন টাকার সেই থলেটা, ৪০ বছর ধরে যাতে তিনি জমাচ্ছিলেন হজে যাওয়ার রসদ। প্রতিবেশীর হাতে দিয়ে বললেন, এই নাও আমার ৪০ বছরের সঞ্চয়। এটা দিয়ে কোনো ব্যবসা শুরু কর। হজে যাওয়ার চেয়েও তোমার দুঃখমোচন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভাগ্যে থাকলে পরে হজ করবো।