প্রধান সহকারী প্রবাসী আবুল খায়ের ও মোঃ আঃ রহিম মোল্লা’র বিরুদ্ধে অভিযোগ নরসিংদীতে স্বাস্থ্য বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেটঃ ৬:০৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬

এম,এ,সালাম রানা,সি এন এ  নিউজ,নরসিংদী:নরসিংদীর ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আবুল খায়ের দু’বছর যাবৎ আমেরিকায় অবস্থান করেও স্ব-পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জেলা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আবুল খায়ের মাত্র ৩ মাসের বহিরাগমন ছুটি নিয়ে দু’বছর অতিবাহিত হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। অপরদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আঃ রহিম মোলা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালসহ উভয় দপ্তরের একই পদে দায়-সাড়াভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবশেষে ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো: আঃ রহিম মোল্লা ও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মোঃ আঃ রহিম মোল্লা ও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ লোকমান উদ্দিন আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক (ডেন্টাল) ডাঃ হিমাংশু রায়কে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি চাঞ্চল্যকর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরি: (স্মা:)/ঢাকা/প্রশা-১৫/তদন্ত/২০১৬ স্মারকের প্রদেয় এক প্রজ্ঞাপনে নরসিংদী জেলার সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ আঃ রহিম মোল্লা ও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতিসহ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জিম্মিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দেখানো হয়েছে। অপরদিকে, নরসিংদী জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ভূক্তভোগী কর্মচারীদের পক্ষে মোঃ সাইদুর রহমান মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত/প্রমাণিত নয় এমন সরাসরি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র জানায়, প্রধান সহকারী আবুল খায়ের ও মোঃ আঃ রহিম মোল্লা উভয়ের আনীত অভিযোগের বিষয় গুলো ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি মহল তাদেরকে সহযোগীতা করছে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে দীর্ঘ ২ বছরের অধিক সময় আকঁড়ে ধরে বিভিন্ন প্রকার সনদ, বদলী, ময়না তদন্ত রিপোর্ট, বয়স নির্ধারণ, হজ্বের সময় স্বাস্থ্য ফিট্নেস সনদসহ বিভিন্ন অর্থ-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেদের হীণস্বার্থ চরিতার্থ করে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগীয় তদন্ত কমিটি আনীত অভিযোগের সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে কে এই প্রধান সহকারী প্রবাসী আবুল খায়ের ও মোঃ আঃ রহিম মোল্লা ?
সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় আমেরিকায় অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ট ট্রাম্প বিজয়ী হলে বাংলাদেশীদের বিতারিত করার প্রকাশিত খবরে প্রবাসী প্রধান অফিস সহকারী আবুল খায়েরের মনে চাকুরীচ্যুত হওয়ার ভীতি সঞ্চারিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে সে দেশে ফিরে পুনরায় চাকুরীতে যোগদান করতে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতালের সঙ্গ-বদ্ধ চক্রটির সাথে যোগাযোগ শুরু করলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে ।
নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আবুল খায়ের সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী রহিম মোল্লাকে ম্যানেজ করেই বিগত ২ বছর যাবত আমেরিকায় অবস্থান করলেও স্বাস্থ্য বিভাগীয় জেলা প্রধানের কোন পদক্ষেপ নেননি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান এবং জেলা প্রশাসন ব্যতিরেকে তদন্ত কমিটি না হয়ে ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা: হিমাংশু রায়কে (ডেন্টাল) তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব ন্যস্ত করার বিষয়টি রহস্যের ধু¤্রজাল হিসেবে জেলার সচেতনমহল ধারণা করছেন।
বর্তমানে নরসিংদী’র একমাত্র আলোচনার মূখ্য বিষয় হচ্ছে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল।