পুজোর কুমারী আসনে মুসলিম রুমা!

আপডেটঃ ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৫

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: প্রতি নবমীতেই চেনা পরিচিতদের নিয়ে কুমারী পুজোয় মাতেন তিনি। আর পাঁচটা জায়গার মতো রীতি রেওয়াজ মেনে অনুষ্ঠান হয়। ব্যতিক্রম একটাই। কালনার এই পুজোয় কুমারী সাজে দেখা যায় মুসলিম মেয়েদের।

পেশায় হোমিওপ্যাথ ষষ্ঠী মল্লিক এই পুজোর আয়োজক। তার যুক্তি, ‘ধর্মের নামে রোজই কোথাও না কোথাও হানাহানি, মারামারি হয়। সকলে মিলে আনন্দই যে আসল আনন্দ, সেই বার্তা দিতেই এই পুজো।’

ষষ্ঠীবাবুর বাড়িতেই পুজোর অনুষ্ঠান হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, গতবারও তিনজনকে কুমারী সাজিয়ে পুজো করেছিলেন তিনি। তাদের মধ্যে একজন মুসলিম, একজন আদিবাসী, অন্যজন ছিল তথাকথিত ‘নিচু’ জাতের।

তবে মায়ের বেশে সিংহাসনে বসার পরে কে কোন ধর্ম বা জাতের, সে প্রশ্ন অবান্তর হয়ে যায়।

এবার কুমারী সাজে পূজিতা হলো বালির বাজার এলাকার বাসিন্দা, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রুমা খাতুন।

রুমার মা রূপা বিবি বলেন, ‘ডাক্তারবাবুকে বহুদিন ধরে চিনি। মেয়েকে পুজো করার কথা বলতেই তাই রাজি হয়ে যাই।’

বৃহস্পতিবার সাত সকালে মেয়েকে নিয়ে ষষ্ঠীবাবুর বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন রূপা।

মেয়েকে গোসল করিয়ে, হলুদ তাঁতের শাড়ি পরিয়ে, ফুলের গয়নায় সাজাতে দেখে খুশি উপচে পড়ছিল মায়ের চোখে-মুখে।

নির্ঘণ্ট মেনে ষষ্ঠীবাবু নিজেই পুজোয় বসলেন। পুজোর দায়িত্বে থাকা রীতা মিশ্র বলেন, ‘ধর্ম মানুষকে বেঁধে রাখে। আমরাও ডাক্তারবাবুর সঙ্গে সকলকে এক সঙ্গে নিয়ে চলার কাজ করছি।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা