গাইবান্ধার ষ্টেশন বাদিয়াখালী বাজার সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি।

আপডেটঃ ৮:১৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩১, ২০১৬

 সি এন এ  নিউজ,গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদর বাদীওখালী ইউনিয়নের নুরুলগঞ্জ বাজারে অভিরাম চলছে রমারমা সুদের ব্যবসা বর্নিক সমিতিসহ আরোও অন্যান্য সমিতির নাম করে সুদের ব্যবসায় ব্যবসায়ীদেরকে ফাঁসিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে বাজার। এক সময় এই বাজার থেকে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হত সরকারী খাতে। আজ সেই বাজার মরতে বসেছে, সুদের ব্যবসার প্রভাব খাটানোর ফলে অনত্র সরে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। পূর্বের বাজার কমিটি চালাতো মিয়া বাড়ীর ছানা মিয়া, বধু মিয়া,মরহুম আমানুল হক মনা চেয়ারম্যান। সরকারী কোষাগারে টাকা জমাহত ও বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিল আন্তুরিকতা। জমাজমাট ছিল বাজারের পরিবেশ। কোন সংশয় ছিল না ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। বর্তমান সময়ে বাজারে সুদ ব্যবসায়ীরা প্রভাব খাটিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিবাদ ও আতংক তৈরী করে মিয়া বাড়ীর লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি, মারধর, ধায়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্যাপারী বাড়ী মোঃ রুপেল বেপারী ও তার ভাই অন্যান্য সহযোগীদেরকে নিয়ে বাজারের মধ্যে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিয়া বাড়ীর সমস্ত লোকজনকে বিভিন্ন সময়ে নাজেহাল করার ঘটনা ঘটছে। ছানা মিয়া রুপেল ব্যাপারীদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা দায়ের করার পর থেকে রুপেল মিয়া বাড়ীর লোকজন রুপেল ব্যাপারীদের ভয়ে বাজারে আসতে পারে না। বাজারের নিয়ন্ত্রন চলে গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়, নুরুলগঞ্জ বাজারে চালিয়ে যাচ্ছে সুদের ও মাদকের ব্যবসা। এ সুদের ব্যবসায় অনেকে ভিটে-বাড়ী ছাড়া। কতিপয় সুদ ব্যবসায়ীদের মধ্যে মোঃ তারা মিয়া বেপারী, বাবলু বেপারী, লাভলু বেপারী, শিবলু বেপারী, পিতা-মৃতঃ চান্দু বেপারী। লিপু বেপারী, রুবেল বেপারী, শ্যামল বেপারী উভয়ের পিতা-জহির উদ্দিন বেপারী। গাইবান্ধা সদর তালুক রিফাইতপুর । ওদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। তাছাড়াও উল্লেখিত সুদ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দাতা (গডফাদার) রয়েছেন একজন। সুদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদের ঋন গ্রহন করে নিস্ব হয়ে পথে বসেছেন ওদের মধ্যে রয়েছে আব্দুর রাজ্জাক, প্রফুল্ল মাষ্টার, আয়েশা, শাহাদুল, এছাড়াও আরো অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি সাক্ষাতকারে জানা যায়, সর্ব শান্ত হয়েছে এলাকার অনেকেই। মতলবুর রহমান আক্তার সুদের টাকায় প্রায় সাত বিঘার একটি পুকুর দখল করে রেখেছে সিন্ডিকেট সুদ ও মাদক ব্যবসায়ী মহল। ডাক্তার মতলুবুর রহমান নিঃস্ব হয়ে এখন তার ছোট ছেলে সুজন মিয়া বর্তমান ভিটে ছাড়া অন্যের বাড়ীতে জীবন যাপন করে যাচ্ছে। সুদ ব্যবসায়ীরা এলাকার কাউকে পরোয়া করেনা । অত্যান্ত দাপটের সহিত নুরুল গঞ্জ বাজারে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। দফায় দফায় শালিস করেও মেম্বার সুমন মিয়া এর কোন প্রতিকার করতে পারে নাই। শ্যামল বেপারী, শিবলু বেপারী তাদের সাঙ্গু পাঙ্গুদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেম্বার সুমনকে জনতার সামনে গলা টিপে হত্যার চেষ্ঠা করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের আতংকে সুমন মেম্বার এগিয়ে না এসে নিরব ভূমিকা পালন করেন। গলা টিপে ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন মেম্বার একটি মামলা দায়ের করেন। আসামী লাবলু বেপারী গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে বেড়িয়ে আসে। জামিনে বেড়িয়ে আসার পরে রুপেলের ছোট ভাই শ্যামল বেপারী দম্ভ করে বলে আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোন কথা বলে বা মামলা করে তাহলে আমাদের কিছুই করতে পারবেনা। কারন আমি আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি। আমার দল ক্ষমতায়। আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। শ্যামল বেপারীরা সুদখোরা, দাঙ্গাবাজ, সন্ত্রাসী, ও খারাপ প্রকৃতির লোক বলে এলাকাবাসী জানান। তাই তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান ভুক্ত ভোগী বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।