‘এরশাদ জোর করে ক্ষমতা নেননি’

আপডেটঃ ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৫, ২০১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জোর করে ক্ষমতা নেননি বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, ‘জেনারেল এরশাদ জোর করে ক্ষমতা নেননি। ক্ষমতার জন্য কোনো চক্রান্তও করেননি। রাষ্ট্রপতি সাত্তার রাষ্ট্রপরিচালনা করতে পারছিলেন না বলে এরশাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।’

 

ব্যারিস্টার আনিস বুধবার রাতে ‘রাজধানী মতিঝিলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সম্মেলন প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি করেন। এতে অসুস্থ্যতার জন্য পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ও দেশের বাইরে থাকায় দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু উপস্থিত হতে পারেননি।

 

পানিসম্পদমন্ত্রীর দাবি, ‘সামরিক শাসক হলেও এরশাদ কখনও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাননি। তাই তিনি ৯০ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। যারা বলেন, জেনারেল এরশাদ ক্ষমতার জন্য চক্রান্ত করেছিলেন, তাহলে তিনি সেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন কেন?

 

তিনি বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। প্রথমত তিনি রক্তপাত চাননি, দ্বিতীয়ত তিনি চেয়েছেন দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।’

 

ব্যারিস্টার আনিস আরো বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাননি বলে এরশাদ ১৯৮৪ সালে নির্বাচন দেন। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে বিএনপি আসেননি। যদি আসতো তাহলে আজকে হয়ত ইতিহাস অন্যরকম হতো। তারপর বাধ্য হয়ে এরশাদ দল গঠন করেন।

 

জাতীয় পার্টি সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দাবি করে ব্যারিস্টার আনিস বলেন, জাতীয় পার্টির রক্তে গণতন্ত্র আছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর যখন পার্টির চেয়ারম্যানকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয় তখনও আমরা নির্বাচন করেছি। দশম সংসদ নির্বাচনেও গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা নির্বাচনে গেছি। না হলে দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতো। জাতীয় পার্টি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে ।

 

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমাদের আমলে লুটপাট হয়নি। খুন গুম হয়নি। দলীয়করণ হয়নি। বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করিনি। তাই গ্রাম বাংলার মানুষ এখন দুটি কথা বলছেন, যত উন্নয়ন এরশাদের, ভাল ছিলাম এরশাদ আমলে।’

 

তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নিতে এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান নেতাকর্মীদের।

 

মহানগরীর আহ্বায়ক ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য  সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজি সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন, যুগ্ম মহাসচিব আরিফ খান, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সুলতান মাহমুদ, দিদারুল আলম দিদার, যুব সংহতির বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির শাহ আলম ও জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রসমাজের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মিরু, মহানগর নেতা ইসহাক ভুইয়াঁ, এম এ সোবহান, খোরশেদ আলম খুশু, মাহবুবুর রহমান খসরু, কাউসার আহমেদ, আকতার হোসেন দেওয়ান প্রমুখ।

 

সাবেকমন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, দল হিসেবে জাতীয় পার্টি তিন নম্বরে কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে এরশাদ এক নম্বরে। যদি পরীক্ষা করতে চান তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দিন। প্রমাণ হবে জনপ্রিয়তায় এরশাদ শীর্ষে, এখনও একনম্বরে।

 

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মৃত্যুর আগে পল্লীবন্ধু এরশাদ ক্ষমতায় যেতে চান। রাজধানীকে জাতীয় পার্টির দূর্গ গড়ে তুলে তার স্বপ্ন পুরণ করবো আমরা। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন করে দেশের চেহারা পাল্টে দেব।’ ১৯ ডিসেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে তিনি দক্ষিণের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন।

 

মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব জহিরুল আলম রুবেল বলেন, আমরা আর কারো ক্ষমতার সিড়ি  হতে চাই না। মানুষের প্রত্যাশা পুরণে আমাদের আগামীতে এককভাবে ক্ষমতায় যেতে হবে।