শিমুল বিশ্বাসের অসাদাচারণের কারণে শমসের মবিনের পদত্যাগ!

আপডেটঃ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৫

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক:
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক কূটনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগের নেপথ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাসের অসৌজন্যমূলক অসাদাচারণকে দায়ী করা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে এমন তথ্য দেয়ার পর শুক্রবার ভোরে খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেলের এক স্ট্যাটাসেও বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

‘দু:খিত শমশের ভাই!’ শিরোনামে ওই স্ট্যাটাসে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, ‘দেশ-জাতি-আদর্শ অনেক বড় বিষয়। কর্মচারী স্তরের ছোটখাটো কোনো লোকের কথায় ক্ষুন্ন হয়ে এত বড় বিষয়গুলো বিসর্জন দেয়া যায় না কখনো।’ কর্মচারিটি যে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তা আগের গুঞ্জন ওঠার সঙ্গে মিলে যায়। শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন নানা অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু খালেদা জিয়াসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই তাতে কর্ণপাত করেনি। খালেদা জিয়াকে অনেক সিনিয়র নেতা থেকে দূরে রাখা, তাদের সম্পর্কে অসত্য কথা বলা এমননি দেখা-সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তার দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন অনেকেই।

এক সময়ের তুখোড় বাম ছাত্রনেতা মারুফ কামাল খান ‘দু:খিত শমশের ভাই!’ শিরোনামে দেয়া স্ট্যাটাসে অনেক বিষয়েরই অবতারণা করেছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো। ‘শহীদ জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শমশের মোবিন চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ ও সদস্যপদেও ইস্তফা দিয়েছেন। এই সময়ে এমন আচমকা তিনি কেন বিদায় নিলেন তা নিয়ে বিতর্ক ও মূল্যায়ন চলছে নানান রকমের। তবে আওয়ামীলীগ যে এতে খুশি তা তারা প্রকাশ করে ফেলেছে।

ক’দিন আগেও তারা শমশের মোবিনকে প্রকাশ্যে “বেঈমান” বলে গালি দিয়েছে। বোমা মারা, গাড়ি পোড়ানো ও খুনের মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে পুরেছে বীরবিক্রম খেতাবধারী যুদ্ধাহত এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে। এখন তার প্রশংসা করছে লীগের লোকেরা।

বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটি পরিবার- শহীদ জিয়া ও শেখ মুজিব পরিবার। এই উভয় পরিবারের সংগে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দুর্লভ সুযোগ শমশের চৌধুরীর হয়েছে। কিন্তু তিনি যা কিছু জীবনে পেয়েছেন তার প্রায় পুরোটা জিয়া পরিবারের কাছ থেকেই। অন্যদের কাছ থেকে চাকরি খাবার হুমকি, কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি, মুজিব হত্যা মামলায় জড়াতে ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদ, জেল, সন্ত্রাসের মামলা এবং “বেঈমান” খেতাব উপহার পেতে হয়েছে তাকে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জার্মানিতে সরকারি খরচে চিকিৎসা করা এবং সেনাবাহিনী থেকে তার চাকরি ফরেন অফিসে ন্যস্ত করার “উপকার”-এর জন্য নিয়মিত খোঁটাও শুনতে হয়েছে।

শমশের ভাই রাজনীতিতে এসে দ্রুত বিএনপির উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তিনি আচানক চলেও গেলেন সেখান থেকে। তার এ অবসর নেয়া সম্পর্কে বিএনপির মূল্যায়ন কী, সে সম্পর্কে মন্তব্য করার উপযুক্ত লোক আমি নই। আমার নিজের মত হলো পলিটিক্স ও পার্টিতে কারো ঢোকা ও অবসর নেয়া তার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু এ ব্যাপারে সময়টাকে সবাই খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে। শমশের ভাইয়ের অবসর ঘোষণার সময়টা সঠিক হয়েছে কিনা এ প্রশ্ন আমার মনেও খচখচ করছে। তিনি কি আরো কিছুদিন চুপচাপ ও নিষ্ক্রীয় থাকতে পারতেন না? অবসর নেয়ার ঘোষণাটা আরেকটু স্থিতিশীল সময় এলে দিলে কী এমন ক্ষতি হতো?

জেল থেকে বেরিয়ে এবার শমশের ভাই আমাদের কারুর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অসুস্থতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বিপদের দিনে কেউ খোঁজ নেয়নি- এমন প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের কথাও এর ওর কাছে শুনেছি। কিন্তু শমশের ভাই, বিপদে আমরা সবাই। তিন মাস টানা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন অফিসে আমরা তো দু:সহ বন্দী জীবনই কাটিয়েছি। যোগাযোগের সব মাধ্যম বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময়ে ম্যাডাম জিয়া তাঁর প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন। এ বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আপনার বিবেচনায় থাকা উচিত। আরেকটি কথা বলবো। দেশ-জাতি-আদর্শ অনেক বড় বিষয়। কর্মচারী স্তরের ছোটখাটো কোনো লোকের কথায় ক্ষুন্ন হয়ে এত বড় বিষয়গুলো বিসর্জন দেয়া যায় না কখনো।

যাই হোক, আপনি অসুস্থ। আপনার সুচিকিৎসা হোক। আপনি সুস্থ হোন। আপনি ভালো থাকুন। দু:খিত শমসের ভাই, খুবই দু:খিত আমরা। আপনার মতন একজন বর্ণাঢ্য মানুষের চমৎকার সান্নিধ্য থেকে আপনি আমাদের বঞ্চিত করে সত্যি দু:খ দিলেন।’

মারুফ কামাল খানের স্ট্যাটাসের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1040681405982146&set=a.106363849413911.3876.100001208901447&type=3&theater