শিশুর সামনে রাগারাগি থেকে সাবধান

আপডেটঃ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৮, ২০১৫

সি এন এ,ডেস্ক: অনেক সময় ফুলের মতো পবিত্র শিশুর আচরণেও নৃশংসতা দেখা যায়। অনেক শিশুই নিজ ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধবকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে। কেউ বা আবার বাড়ির পোষ্য কুকুরকে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলে। এমনকি অ্যাকুরিয়ামের মাছ মেরে ফেলাসহ পুতুলের হাত-পা ভেঙেও ফেলে অনেক বাচ্চা।

বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক জয়রঞ্জন রাম মনে করেন, প্রধানত দুই ধরনের শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়। এক. অতিরিক্ত চঞ্চল ও অস্থিরমতি শিশু এবং দুই. নিয়মিত মারধর খাওয়া শিশুদের মধ্যে।

সদা চঞ্চল শিশুরা সব সময় ভেবেচিন্তে কাজ করে না। তাছাড়া তারা অণুকরণপ্রিয়। তাই নিষ্ঠুর কোনো দৃশ্য দেখে তার অনুকরণ করতে গিয়ে অঘটন ঘটিয়ে ফেলে তারা। আর যারা বাড়িতে বা স্কুলে মার খায়; তারা মনের ভেতরে জমে থাকা রাগ এমন আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে।

তাই শিশুদের সঙ্গে কিভাবে আচরণ করবেন এবং কিভাবে বুঝবেন তারা নৃশংশ হয়ে উঠছে তা বুঝে উঠার উপায় বাতলে দিয়েছেন মনোচিকিৎসক জয়রঞ্জন রাম। উপায়গুলো হল_

১. পরিবার, পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের রাগ প্রকাশের ভঙ্গি দেখে শিশুরা শেখে। তাই ওদের সামনে মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি। এজন্য বাড়ির পরিবেশ পরিশীলিত হওয়া দরকার। দৈনন্দিন বাবা-মার মধ্যে অশান্তি, পরিবারের সদস্যদের হিংসাত্মক আচরণ কোমলমতি শিশুদের আক্রমণাত্মক করে তোলে।

২. বর্তমানে ছোট পরিবারে অনেক শিশুই দীর্ঘক্ষণ টিভি বা কম্পিউটার নিয়ে ডুবে থাকে। এসবে প্রদর্শিত নৃশংস খুনের দৃশ্য, ভয়-ভীতি, এমনকি কার্টুনে দেখানো মারামারিও কচিমনে প্রভাব ফেলে। এসব থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে হবে।

৩. নিজ শিশু স্কুলে নিগৃহীত হচ্ছে কি-না; তার খোঁজ নিতে হবে। তা থেকেও ওর আচরণ নৃশংস হতে পারে।

৪. খুব চাপা স্বভাবের শিশু যদি হঠাৎ নৃশংস আচরণ করে; তাহলে সেদিকে আলাদা করে গুরুত্ব দিন। কেনো তার মধ্যে এই পরিবর্তনটা আসছে তা বোঝার চেষ্টা করুন।

৫. যখন দেখছেন শিশু মাঝেমধ্যেই নৃশংস আচরণ করছে; তখন ওর সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। ওর রাগের কারণটা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু বিশেষ কিছু পাওয়ার জন্য এমন আচরণ করছে কি-না সেটা দেখুন। সেটা হলে ওকে বোঝানোর চেষ্টা করুন-ভালো আচরণ করলেই তবেই সে ওট পাবে।

৬. কাউকে আঘাত করলে যে তার যন্ত্রণা হয় সেটা শিশুকে বোঝানো দরকার। ওকে বলুন, ‘তোমাকে মারলে তোমার যেমন ব্যথা লাগে, তুমি কাউকে মারলে তারও কষ্ট হয়’।

এজন্য একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া খুবই জরুরি। প্রয়োজনে মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।