আতঙ্ক ও আশঙ্কা প্রকাশ করলো শিশু সৌরভ

আপডেটঃ ২:৪৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৮, ২০১৫

 সি এন এ নিউজ,ডেস্ক :
“অনেকদিন বাঁচতে চাই। কিন্তু ভয় হয়, এমপি লিটন ও তার লোকজন আমাক বাঁচতে দেবে তো? আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন করবে না তো?” -গাইবান্ধায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ছোড়া গুলিতে আহত শিশু সৌরভ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও এমনিভাবে নিজের ও পরিবারের আতঙ্কের কথা প্রকাশ করে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।

২৪ দিনের চিকিৎসা শেষে সোমবার সকালে হাসপাতাল ছাড়ার আগে কর্তৃপক্ষ সৌরভকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করলেও এভাবে ভয় ও আতঙ্কের কথা জানায় শিশু সৌরভ।

তার এই আতঙ্ক ও আশঙ্কার মাঝেই পরিবারের নিরাপত্তায় দুই গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এর আগে সোমবার বেলা সোয়া ১টায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান শিশু সৌরভ। হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামের বাড়ি ফেরে সৌরভ।

বাড়ি পৌঁছার পর পরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে সৌরভদের বাড়ি পাহারায় দুই চকিদারকে নিযুক্ত করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন, সৌরভের পরিববার যতদিন নিরাপত্ত চাইবে, ততদিন স্থানীয় দুজন চৌকিদার বাড়ি পাহারা দেবেন।

এদিকে পরিবারের পাহারায় দুই চৌকিদারের নিয়োগেও এমপি লিটনের ভয় কাটেনি শিশু সৌরভের মন থেকে। আতঙ্কে রয়েছেন তার বাবা-মাও।

সকালে সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ বলে, অনেকদিন বাঁচতে চাই। কিন্তু ভয় হয়, এমপি লিটন ও তার লোকজন আমাক বাঁচতে দেবে তো? আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন করবে না তো?

নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সৌরভের বাবা সাজু মিয়াও। তিনি জানান, এমপি লিটনের ক্যাডাররা ভয়ঙ্কর; ঘটনার পর থাকি তারা হুমকি দিয়া আসছে। প্রতিশোধ নিতে তারা আমাকে ও সৌরভকে অপহরন করতে পারে। আমার বাড়িঘর ভেঙ্গে দিতে পারে-সেই আতঙ্কে ভুগতিছি।

প্রসঙ্গত, ২ অক্টোবর ভোরে সুন্দগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় আওয়ামী লীগ এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ছোড়া গুলিতে আহত হয় গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ।
এ ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ দেশজুড়ে জনমোনে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

গাইবান্ধাবাসীর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ঘটনার ১১ দিন পর ১৪ অক্টোবর রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে লিটনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর এখন এমপি লিটন গাইবান্ধা কারাগারে আছেন।