যে ৮ কারণে মেদ ভুঁড়ি থেকে মুক্তি নেই আপনার, পড়ুন উপায়

আপডেটঃ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৪, ২০১৬

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক:

পেটের চর্বি কমানোর জন্যে নানা প্রচেষ্টা চালায় মানুষ। কিন্তু বেশ কিছু কারণে এ চর্বি কখনোই কমবে না। বিশেষজ্ঞরা এখানে জানাচ্ছেন কয়েক পরিস্থিতির কথা। এগুলো থাকলে কখনোই ভুঁড়ি কমবে না আপনার।

১. পরিস্থিতি : আপনি যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন খান। কিন্তু সঠিক প্রোটিন নয়।

যা ঘটে : নিম্নমাত্রার প্রোটিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে আপনার পেট ভরিয়ে দেয়। হালকা পেশি তৈরি করে এবং ক্যালোরি পোড়ায়। আপনি ব্যায়াম না করলেও এমনটা ঘটবে বলে জানান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স-এর বিশেষজ্ঞ মারিনা চাপারো। এ ধরনে প্রোটিন মিলতে পারে মাছ, মুরগি, টার্কি এবং সবজি থেকে। কিন্তু আপনি খাচ্ছেন রেড মিট ও চিজের প্রোটিন।

যা করতে হবে : এসব নিম্নমাত্রার প্রোটিন খেতে হবে। লক্ষ্য থাকবে প্রতিদিন আপনার ২.২ পাউন্ড ওজনের জন্যে ১ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া। এ হিসাবে বলা যায়, একজন ১৪৫ পাউন্ড ওজনের নারীর প্রদিতিন ৬৬ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ফাইবার খেতে হবে। প্রতিদিন ১০ গ্রামপ প্রোটিন বৃদ্ধির সঙ্গে পেটের মেদ কমবে ৩.৭ শতাংশ। টানা ৫ বছরের গবেষণায় এ ফলাফল মিলেছে।

২. পরিস্থিতি : আপনার ফিটনেস সূচি একই ধরনের। হয় কার্ডিও কিংবা শক্তিবৃদ্ধির প্রশিক্ষণ।

যা ঘটে : হয়তো আপনি ব্যায়াম করেন। কিন্তু হয় কার্ডিও কিংবা শক্তিবৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দুয়ের সমন্বয় পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করে।

যা করতে হবে : দুই ধরনের ব্যায়ামের রুটিন তৈরি করুন। এক গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সপ্তাহে হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভেলের সময়সূচি নির্ধারণ করে নিন। তবে এসব শক্ত ব্যায়ামে যে শক্ত ফল মেলে তা নয়। ব্যবহারবান্ধব মেশিনের ব্যবহারের এগুলো করতে পারেন। সেই সঙ্গে অন্যান্য ব্যায়ামের সমন্বয় করুন।

৩. পরিস্থিতি : আপনি কার্ডিও এবং শক্তিবৃদ্ধির প্রশিক্ষণের সমন্বয় করেছেন। কিন্তু এর মাঝে স্ট্যান্ডার্ড প্লাঙ্ক বহু দিন বন্ধ রয়েছে।

যা ঘটে : প্লাঙ্ক করতে সবাই পছ্ন্দ করেন। এ ব্যায়ামটি পেশিকে দারুণ দৃঢ় করে তোলে। কিন্তু অন্য দুটির সমন্বয় করতে গিয়ে এর কথা ভুলে যান অনেকে। আমেরিকান কাউন্সিল অব এক্সারসাইজ সায়েন্সের প্রশিক্ষক জেসিকা ম্যাথিউস জানান, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের প্লাঙ্ক আপনার পেটটাকে অনেক কমিয়ে দিতে পারে।

যা করতে হবে : প্রশিক্ষকের কাছ থেকে শিখে নিন বিভিন্ন ধরনের প্লাঙ্ক। ব্যায়ামের আলাদা অংশ বানিয়ে এর চর্চা চালান।

৪. পরিস্থিতি : আপনার দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যা ঘটে : আথ্রাইটিস বা মাল্টিপল স্কোলেরোসিসসহ বেশ কয়েক ধরনের রোগের চিকিৎসায় যে ওষুধ ব্যবহৃত হয়, তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওজন বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

যা করতে হবে : ওষুধ খেতে হলেও সমস্যা নেই। বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে আপনি খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে পেট নিয়্ন্ত্রণে আনতে পারেন।

৫. পরিস্থিতি : প্রক্রিয়াজাত নিম্নমাত্রার ফ্যাট খান আপনি।

যা ঘটে : এস প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর চিনি থাকে। আর চিনি পেট বাড়ানোর জন্যে যথেষ্ট কাজ করে। তবে মনো এবং পলিআনস্যাটুরেটেড ধরনের ফ্যাট কিছুটা পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

যা করতে হবে : এ ধরনের খাবার খেতে হবে। বাদাম, অলিভ এবং অলিভ ওয়েলে এ ধরনের ফ্যাট রয়েছে।

৬. পরিস্থিতি : আপনি ব্যস্ত, তাই অধিকাংশ সময় সকালের নাস্তা খাওয়া হয় না।

যা ঘটে : খাবার না খেলে যে ভুড়ি হয় না তা নয়। এতে বিপাকক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পেট বেড়ে যেতে পারে।

যা করতে হবে : দেহের বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে সময়মতো খেতে হবে। এতে পেট নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৭. পরিস্থিতি : বাড়িতেই থাকেন বা অফিসে, আপনি সব সময় মানসিক চাপে থাকেন।

যা ঘটে : মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। এই হরমোন পাবস্থলীতে জমা হয়। ফলে বিপাক্রিয়ায় ছন্দপতন ঘটতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিত চাপে থাকা এবং না থাকার নারীদের একই ধরনের উচ্চমাত্রার প্রোটিনপূর্ণ খাবার দেওয়া হয়। যিনি চাপে রয়েছেন তার দেহে কম ক্যালোরি পোড়ে। ফলে তার পেট বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

যা করতে হবে : অফিস বা বাড়ির কোনো পেরেশানি থেকে  একদিনের জন্যে হলেও দূরে থাকুন। আবার ভালো ঘুমের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

৮. পরিস্থিতি : মেনোপজে উপনীত হয়েছেন। কাজেই বাড়তি কিছু মেদ জমবে।

যা ঘটে : নারীর দেহে মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ কমে আসে। এতে পেটের ফ্যাট সেলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় রক্ত থেকে ফ্যাট সরিয়ে ফেলার সক্ষমতা হারায় তারা।

যা করতে হবে : মেনোপজের পর হালকা কায়িক শ্রম পেটকে নিয়্ন্ত্রণ করে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। বাগান করা বা হাঁটার মতো ব্যায়ামই যথেষ্ট বলে জানায় আমেরিকান মেনোপজ সোসাইটির এক গবেষণা।