বাংলাদেশে আইএসের অবস্থান ‘নিশ্চিত নয়’ যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটঃ ২:১৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৮, ২০১৫

1445935498

ডেস্ক:

বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো কর্মকাণ্ড আছে কিনা সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে। তবে তারা বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছে। সোমবার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কারবি এ মন্তব্য করেন।

তিনি সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ‘ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে’ বলেও জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে জন কারবি বলেন, ‘আইএস বাংলাদেশে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কিনা তা বলা কঠিন। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার মত অবস্থানে আমি নেই।’

তিনি বলেন, ‘তবে এখন একটি তদন্ত চলছে, আমরাও চাই… যদি কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে চাই।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেল্লা এবং ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

এরপর জঙ্গিগোষ্ঠি আইএস দুটি ঘটনারই দায় স্বীকার করেছে বলে খবর দেয় ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ নামের একটি জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা।

এরপর গত ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসনী দালানে আশুরার তাজিয়া সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও বহু আহত হন। আইএস এই হামলারও দায় স্বীকার করেছে বলে ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ দাবি করে।

অবশ্য বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, এসব ঘটনার সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা বা দায় স্বীকারের দাবির কোনো ভিত্তি গোয়েন্দারা খুঁজে পায়নি। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

আরেক প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘হামলার দায় স্বীকার করে আইএসের দাবির ব্যাপারটি আমরা লক্ষ্য করেছি। এসব হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও তাদের বিচারের আওতায় আনতে আমরা বাংলাদেশ সরকার ও প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হামলার দায়ীদের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারবে। এটা নিশ্চিত করা তাদের ব্যাপার। আইএসের দায় স্বীকারের দাবি গুরুতরভাবে নেওয়াই সমীচীন হবে, যা আমরা করে থাকি।’

জন কারবি বলেন, ‘তবে সত্যিকার অর্থে কারা এসব হামলার জন্য দায়ী, তার নির্দিষ্ট তথ্য আমার কাছে নেই। আমরা বিষয়টি বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি, তারা তদন্ত করে একটা উপসংহারে আসুক।’

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বললেন যে, আইএস হামলা চালিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আপনারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন। আপনারা তুরস্কের সরকারের সঙ্গে আঙ্কারা বোমা হামলা নিয়ে কি কাজ করছেন?’

এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমি বলেছি, যদি বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজন হয়, সম্ভব হলে আমরা অবশ্যই সহায়তা করব। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এটা তদন্ত করছে— তুরস্কের সরকারও তাদের বিষয়টি (বোমা হামলা) তদন্ত করছে।’